তালতলীতে চাল পায়নি জেলেরা

6

কে এম সোহেল,আমতলী  প্রতিনিধিঃ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের খাধ্য সহায়তা কর্মসূচীর বিশেষ ভিজিএফ চাল এখনো পায়নি বরগুনার তালতলী উপজেলার ৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে সাত হাজার জেলে। এক দিকে মাছ ধরা বন্ধ অন্য দিকে ভিজিএফের বিশেষ বরাদ্দকৃত চাল না পেয়ে দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে ওনসকল জেলেরা।

সাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় নদ-নদীতে মা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন (২ নভেম্বর) পার হলেও আহরণে বিরত থাকা বরগুনার তালতলী উপজেলার ৭ হাজার ৪৬১ জন দুস্থ জেলে পরিবার সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির উপ-বরাদ্ধ প্রাপ্ত বিশেষ ভি.জি.এফ চাল এখনও পায়নি। সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা মেনে এ সময় জেলেরা বেকার দিন কাটালেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে কর্তৃপক্ষ চাল বিতরণ করতে পারেনি। ফলে অর্ধহাওে অনাহারে দুর্বিসহ জীবন কাটাতে হচ্ছে  ভূক্তভোগী জেলেদের।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এই ২২ দিন র্ছিল সাগর ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মা ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল। সরকারের এ ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়ে এ উপজেলার জেলেরা মা ইলিশ রক্ষায় সাগর ও নদ-নদীতে সকল প্রকারের জাল ফেলা থেকে বিরত থাকে। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় বিরত থাকা জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়ার ঘোষনা দেয় সরকার। সে লক্ষে এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৮হাজার ২৬৬ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৭ হাজার ৪শ’৬১ জন জেলের জন্য ২০ কেজি করে ১৪৯ দশমিক ২২০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিবন্ধিত ৭ হাজার ৪শ’ ৬১ জন জেলেদের মধ্যে উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে ৭শ’ ৯৩ জন, ছোটবগী ইউনিয়নে ৮শ’১৬জন, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে ৭শ’৩৩জন, শারিকখালী ইউনিয়নে ৫শ’৪৭জন, বড়বগী ইউনিয়নে ১হাজার ১শ’৭৪জন, নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নে ১হাজার ৬শ’৭৯জন ও সোনাকাটা ইউনিয়নে ১হাজার ৭শ’ ১৯ জন জেলে পরিবারে পাবে এ চাল। মালিপাড়া গ্রামের জেলে আবু হানিফ বলেন, মাছ ধরা বন্ধের সময় মোরা মাছ ও ধারতে পারি নাই আবার চাউলও পাই নাই কি কইরা মোরা বাঁচি। নলবুনিয়ার জেলে শাহআলম বলেন, মোরা না খাইয়া দিন কাডাইছি। কেউ মোগো খবর লয় নাই। পোলা মাইয়া লইয়া না খাইয়া মোরা দিন কাডাইছি। গত ৩১ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের আইন শৃংখলা কমিটির বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদ চেয়ারম্যানদেরকে ২ নভেম্বরের মধ্যে জেলেদের ভিজিএফে’র চাল বিতরনের তাগিদ দেন। কিন্তু এক এক করে নিষেধাজ্ঞার ২২দিন পার হলেও চাল বিতরন করতে পারেনি চেয়ারম্যানরা। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমি ভ্রাম্যমান আদালত নিয়ে নদীতে ও সাগরে ব্যস্ত সময় পার করেছি কি কারনে চাল দেয়া হয়নি তা আমি জানি না। তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত) মো: ই¯্রাফিল বলেন, চেয়ারম্যানরা নির্ধারিত সময়ের মধে তালিকা জমা দিতে না পারার কারনে আজ (বুধাবর) পর্যন্ত চাল বিতরন করা সম্ভব হয়নি।  তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ছুটিতে থাকার কারনে তাকে পাওয়া যায়নি।