তেঁতুলিয়া নদীর করাল গ্রাসে নি:স্ব শত শত পরিবার

5

 

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর করাল গ্রাসে নিশ্চি‎‎হ্ন হতে চলেছে বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের ধুলিয়া গ্রাম, নতুন বাজার ও মঠবাড়িয়া এবং নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি ও তাঁতেরকাঠী এলাকা। গত কয়েক দিনের অব্যহত ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে নিশ^ হয়ে গেছে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার। হুমকির মুখে পরেছে ভাষা সৈনিক ও ন্যাপ নেতা সৈয়দ আশ্রাফের কবর ও তাঁর বাড়ি। মাত্র ২শ’ মিটার দুরে থাকা তাঁর কবরটি যে কোন মূহূর্তে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ধুলিয়া ও পাশর্^বর্তী মঠবাড়িয়া গ্রামের মানুষের চোখেমেুখে হতাশার ছাপ। সর্বস্ব হারিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে রয়েছে হুমায়ুন দেওয়ান, মিন্টু দেওয়ান, সিদ্দিক মোল্লা, আনছার মিয়া, বজলু তালুকদার, সত্তার তালুকদার, সোবাহান হাওলাদার, লতিফ হাওলাদার, আকবর হাওলাদার, হেলাল হাওলাদার, নাসির সরদার, জুলহাস সরদার, খোকন খান, খালেক খান, কামাল ফকির, জামাল ফকির, হারুন হাওলাদার, জলিল হাওলাদার, সত্তার সরদার, সুলতার আকনসহ শতাধকি পরিবারের লোকজন। পরিবারগুলোর মহিলা ও শিশুরা অজানা আতংকে চিৎকার করে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে আর  পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন আবাস হারিয়ে মাথা গোঁজার জন্য অন্যের জায়গায় খুপরি বানাচ্ছে। ধুলিয়া গ্রামের মিন্টু দেওয়ান কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওই তেঁতুলিয়া নদী আমাগো বাড়ি ঘর কাইরা নিছে, এহন আমরা বউ পোলাপান লইয়া অন্যরে জায়গায় খুপরি কইরগা আছি”। একই গ্রামের হেলাল হাওলাদার বলেন, “ঘর গেছে-বাড়ি গেছে, এহন রাক্ষুসে তেঁতুলিয়া আমার জমিডাও খাইতে চায়, জমিডা গেলে পথের ফকির অইয়া যামু”। ধুলিয়ার তেঁতুলিয়া নদীর পারে গেলেই এখন এহেন বিলাপ শোনা যায়। বিরামহীন গতিতে ভাঙ্গন চলছে মঠবাড়িয়া গ্রামেও। একই এলাকায় তেঁতুলিয়ার করাল গ্রাস থেকে ভাষা সৈনিক ও ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম সৈয়দ আশ্রাফের বাড়ি ও তাঁর কবর রয়েছে মাত্র ২ শ’ মিটার দুরে। যে কোন সময় বাড়িসহ তাঁর কবরটি নদীর অতল গহ্বরে চলে যেতে পারে। স্থানীয়রা জানান, ধুলিয়া গ্রামটি গেল বছরও তেঁতুলিয়া নদী থেকে ৪ কিলোমিটার দুরে ছিল। গেল সপ্তাহে অমাবশ্যার জো ও উজানের পানির চাপে ভাঙ্গনের মাত্রা আশংকাজনক হারে বেড়েছে। একই অবস্থা নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি ও তাঁতেরকাঠী গ্রামের। অসহায় মানুষের পাশে এখনো সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি সরকার কিংবা কোন সংস্থা। ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব হাওলাদার জানান, সাধ্য অনুযায়ী ভাঙ্গনের কবলে পরা পরিবারগুলোকে ইউনিয়নেরই অন্য কোথাও মাথা গোঁজার ঠাই করে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তেঁতুলিয়ার হাত থেকে ধুলিয়াকে বাঁচাতে টেকসই বেরিবাধ খুবই জরুরী। অন্যথায় বাউফলের মানচিত্র থেকে একসময় ধুলিয়ার নাম মুছে যাবে। নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক অভিন্ন সুরে বলেন, প্রতিবছরই এসময়টায় ভাঙ্গনের কবলে পরে তার ইউনিয়নের শত শত পরিবার নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে। এদেরকে রক্ষা করতে হলে বেরিবাধের বিকল্প নেই।