দশমিনার চর শাহাজালালে ১৪০ ভূমিহীন দু’যুগেও খাস জমি পায়নি

3

 

মামুন তানভীর দশমিনা প্রতিনিধি ঃ দু’যুগ অতিবাহিত হলেও পটুয়াখালীর দশমিনার চর শাহজালালে ১৪০ ভূমিহীন পরিবারের কপালে জুটেনি এক টুকরা খাস জমি। চরের বসতিদের প্রশ্ন কবে তাদের দখলীয় খাস জমির বন্দোবস্ত।

জানা যায়, উপজেলার সদর থেকে সর্ব দক্ষিণ পূর্ব কোনে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ঠিক মাঝ খানে চর শাহজালালের অবস্থান। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের প্রতিষ্টাতা সভাপতি প্রয়াত আব্দুর সাওার খানের নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে এ চরের নদী ভাঙ্গন কবলিত ১৪০ ভূমিহীন পরিবার দু’চালা কুড়ের ঘর তুলে বসবাস শুরু করে। দু’যুগ ধরে প্রকৃতিক দুর্যোগ আর ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করেও এসব বসতিরা ভাল থাকার উপায় বের করতে পারেনি। শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয়জল ও খাস জমি বন্দোবস্ত না পাওয়াসহ হাজারো সমস্যা চরবাসীকে আষ্টে পৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। এসব সমস্যা থেকে তারা বের হয়ে আসতে পারছে না। চারদিকে ভূমি দস্যু, ভূমি দালালরা ঘুর ঘুর করছে। সুযোগ পেলেই খাস জমির আশ^াসে ভূমিহীনদের শেষ অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছে ক্ষমতায় থাকা সরকারের ভূমি দালালরা। যেদিকে ক্ষমতা, সে দিকে ছুটে ওরা, কিন্তু তারপরও ওদের কপালে জুটে না একটুকরা জমি। চরবাসীদের দুরবস্থা ইদানীং এতটাই বেড়েছে যে অনেকেই দু’বেলা খাবার জোগার করতে পারছে না। সরেজমিনে চরবাসীর সঙ্গে কথা বললে এরকম চিএ বেড়িয়ে আসে। উপজেলার সদর থেকে এ চরে ট্রলার কিংবা নৌকা ছাড়া যাওয়ার কোন উপায় নেই। ৪/৫ ঘন্টা যেতে সময় লাগলেও আবহাওয়া খারাপ থাকলে যাওয়ার কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ভূমি বঞ্চিত ভূমিহীনদের একটাই দাবি এ সরকার কর্তৃক খাস জমির বন্দোবস্ত পাওয়ার। এ চরে বিপুল পরিমান খাস জমি থাকলেও নদী ভাঙ্গন কবলিত ভূমিহীনদের কপালে জুটেনা । ভূমি বঞ্চিত ভূমিহীনদের অভিযোগ, এখানকার অধিকাংশ খাস জমি দশমিনা, গলাটিপা ও বাউফল উপজেলার এক শ্রেণির বিত্তবান ভূমিদস্যুরা ১৯৮২-৮৩ সালে নামে-বেনামে বন্দোবস্ত নিয়েছে। সরেজমিনে কথা হয় এ চরের ভূমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেক খানের সাঙ্গে। খালেক খান বলেন, গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নের আলাউদ্দিন গং দেড়শ’, চর বিশ^াসের রাজ্জাক, শাহআলম ও সাজু মৃধা একশ’, মুক্তার হোসেন মাল একশ’, বাউফল উপজেলার বাসিন্দা (তৎকালীন রণগোপালদী ইউনিয়নের তহশিলদার) আঃ রাজ্জাক দেড়শ’, দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের পাতার চরের আনসার সরদার ও মোসলেম সরদার ৮০, আবুল রাড়ি দেড়শ’ একর জমি নামে বেনামে বন্দোবস্ত নিয়েছেন। এসব ভূমি খাদকরা মোট ৭৩০ একর খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে গোটা চর গ্রাস করে রেখেছেন। ১৯৯২ সালে বাকৃফে’র প্রায়ত নেতা কমরেড আব্দুর সত্তার খান খাস জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেয়ার দাবিতে আন্দোলন ও সরকারী খাস জমি দখলকারী প্রাভশালীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই সময় দশমিনা-গলাচিপা আসনের এমপি আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের মধ্যস্ততায় প্রতি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ১২৫ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দিবে বলে আশ^াস দেন। ওই আশ^াসের প্রতিশ্রুতি আজও আলোর মূখ দেখেনি। দু’যুগের বেশি বসবাস করেও ওই চরের একটুকরো জমির মালিক হতে পারেনি ভুক্তভোগী ভূমিহীনরা। ভূমি বঞ্চিতরা অভিযোগ করে বলেন, কীভাবে প্রভাবশালী ভুমিহীন সেজে শত শত একর জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে তা কর্তাব্যাক্তিরা আজও পর্যন্ত তলিয়ে দেখেনি। নদী ভাঙ্গা, সর্বহারা মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করে বেঁেচ আছে স্থায়ীত্ব পাবার জন্য। এখানে জীব ধারণের নুন্যতম কোন সুবিধা নেই। নেই কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। এক ফোটা বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। বুড়াগৌরাঙ্গ নদী ও খালের পানি খেয়ে তৃষ্ণা মিটাতে হয়। এসব ভূমিহীন পরিবার একটুক ভাল থাকার তীব্র আকাঙ্খায় বছরের পর বছর এ ধরণের সমস্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে ন্যায্য দাবিটুকু বাস্তবায়ন চায়।

মানবন্ধন শেষে এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তারা একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন। স্বারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, মির্জাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ ওয়াজেদ আলী একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি বরং মির্জাগঞ্জ উপজেলার শান্তি কমিটির সভাপতি আজাহার উদ্দিন খানের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সুবিদখালী বাজারে শ্রী গৌরিকুন্ডসহ অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল ও লুটপাট করেছেন।