দশমিনায় ভাঙনের মুখে ১৭ গ্রাম

2

 

রিপন কর্মকার,দশমিনা প্রতিনিধিঃ তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর দশমিনার গ্রামগঞ্জ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যায়গা জমি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ । স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তেতুলিয়া নদীর ক্রমাগত ভাঙনে প্রায় পাচ হাজার  একর ফসলি জমি, ১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন সেল্টার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ ১৭ গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে প্রায় কয়েকশ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে এখন নিঃস্ব ভ’মিহীন হয়ে জীবন যাপন করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নে নদী ভাঙনের কবলে ভোলাইশিং, বেলচর, কালীর চর, চঙ্গারচর, চরতৈলক্ষ, চর ভুপেন্দ্র, পাতার চরসহ সাতটি গ্রাম একেবারে বিলীন হয়ে গেছে। তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে রণগোপালদী ইউনিয়নের চরঘুনি, আউলিয়াপুর, দক্ষিণ রণগোপালদী, উত্তর রণগোপালদী, চর শাহজালাল, চর বোরহান, দশমিনা ইউনিয়নের হাজিরহাট, গোলখালী, কাটাখালী, চরহাদী, কাউয়ার চর, সৈয়দ জাফর ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া গ্রাম, চর বাঁশবাড়ীয়া, চরবোরহান, চর সাইমুন, ঢনঢনিয়া গ্রামসহ ১৭টি গ্রাম। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানায় , তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে অপরিকল্পিতভাবে বনায়ন করায় নদীর স্রোতের গতিপথ বাধাগ্রস্থ হয়ে দশমিনা উপজেলার মূল ভূখন্ডে আঘাত হানছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ও গ্রীষ্মের শুরুতে উপজেলার তীরবর্তী এলাকা ভেঙে মূল ভূখন্ডের আয়তন হারাচ্ছে। অপরদিকে নতুন, নতুন চর জেগে উঠে দ্বীপচরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদী ভাঙনে ভিটামাটি হারা  পরিবার রাজধানী ঢাকার বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দশমিনার নদী ভাঙা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এলাকাবাসী জানায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর নদীর ভাঙনের তীব্রতায় প্রতি দিনই ফসলি জমিসহ বেড়ি বাঁধ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সওকত জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এবং আমি নিজে ব্যাক্তিগতভাবে একাধিকবার উপর মহলে জানিয়েছি।