দশমিনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বানিজ্যের অর্ধকোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির দন্দ্ব চরমে

3

 

দশমিনা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দশমিনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্যর অর্ধকোটি টাকার ভাগবাটোয়ারা ও প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির মধ্যে দন্দ্ব চলছে এমন আভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৮ জুলাই দশমিনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক, সাধারণ শাখায় সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায়শিক্ষা, লাইব্রেরিয়ান, কারিগরি শাখায় বিএসসি গনিত, বিএসসি বিজ্ঞান, ভাষা ইংরেজি, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর জেনারেল মেকানিক্স ও কম্পিউটার ডেমোনেস্টেটর কাম মেকানিকসহ শূন্য পদে ৯জন শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি  জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওইসব পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ৯৯ প্রার্থী বিধি মোতাবেক আবেদন করে এবং সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে ২ প্রার্থী আবেদন করে। কিন্তুব্যাংক ড্রাফট বিহীন বিধি বর্হিভূত ভাবে আরও ৩ প্রার্থী ৯ ও ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা এবং তাদেরকে নিয়োগ দেয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দশমিনা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঘুষ-দূর্ণীতি ও আত্মসাৎ অভিযোগ করেন, ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি কাজী আমির হোসেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবরে লিখিত অভিযোগপত্রের অনুলিপি ডাকযোগে দশমিনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকের বরাবরে অভিযোগকারী প্রেরণ করে। দশমিনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিপুণ চন্দ্র অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। অভিযোগকারী তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নিয়োগ বোর্ড গঠন, নির্বাচনী পরীক্ষা, নিয়োগ দান, যোগদান করানোসহ সবকিছু তড়িৎগতিতে রেজুলেশন বিহীনকরা হয়েছে। প্রতি নিয়োগ প্রার্থীর কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক দেড় লাখ ও সভাপতি এবং তার দু’ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আমীন প্যাদা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপদেষ্ঠা মোঃ আজমল আহমেদ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে। এর কিছু অডিও রেকর্ডিং স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হাতে তুলে দেন অভিযোগকারী। নিয়োগ পরবর্তী রেজুলেনে প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাহ উদ্দিন সৈকত পূর্বের ভূয়া বিল-ভাউচার বাবদ ২৯লাখ ২ হাজার ৬২৩টাকা দেখানোয় এসএমসি সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা প্যাদা ওই রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করায় উভয়ের মধ্যে চরম কোন্দল সৃষ্টি হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের রেজিঃ ফি, ফরম ফিলাপ, সার্টিফিকেট বিক্রি, প্রসংশাপত্র বিক্রি, মাছ বিক্রি, ডাব বিক্রি, পুরাতন কাগজপত্র বিক্রি, অডিটেরিয়াম ভাড়া ও ছাত্র বেতনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাহ উদ্দিন সৈকত প্রায় ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৮শ’ টাকা বিদ্যালয় হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যাক্তিহতভাবে খরচ করেছেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয় প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাহ উদ্দিন সৈকত বলেন, ব্যায়িত বিলের বিষয়টি রেজুলেশনে উল্লেখ থাকায় সভাপতি স্বাক্ষর করেনি। নিয়োগ মূহুর্তে এসব বিল স্বাক্ষর না করলে পড়ে এসব বিল উত্তোলন করা কষ্টসাধ্য হবে। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা একজন অশিক্ষিত ব্যাক্তিকে সভাপতি নিবার্চিত করেছে। তিনি বিদ্যালয়ের চিন্তা না করে তার দু’ছেলে জুয়েল আজমলসহ নিয়োগ বানিজ্যে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নিয়োগে আমি কোন প্রাকার বনিজ্য করিনি।

এসএমসি সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা প্যাদা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আমি এবং আমার দু’ছেলে কোন নিয়োগ বানিজ্য করেনি। হেড মাস্টার এসব কাজ করতে পারেনি বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনার পর জানমাল এবং সম্মানের নিরাপত্তা চেয়ে এসএমসি সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা ৫ নভেম্বর দশমিনা থানায় প্রধান শিক্ষক মোঃ সালাহ উদ্দিন সৈকতের বিরুদ্ধে সধারণ ডায়েরী করতে গেলে একটি প্রভাবশালী মহলের তদবিরে থানা পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

এর আগে সহকারী শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান পদে আবেদনকারী ও বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য মোঃ আঃ রহমান নিয়োগ পরীক্ষায় প্রবেশপত্র না পাওয়া, উৎকোচ চাওয়া ও দূর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৭ অক্টোবর পটুয়াখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ৭ অক্টোবর কারণ দর্শাইবার ও ১১ অক্টোবর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয় বিবাদী নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের। অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন সুচতুর অভিযুক্তরা লাখ লাখ টাকার মোহে তড়িৎগতিতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৯ ও ১০ অক্টোবর নির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণের আমান্ত্রন জানিয়ে ৯ ও ১১ অক্টোবর রাতে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন করে।