দাদন টাকা পরিশোধ না করায় রশি দিয়ে বেঁধে দুই জেলেকে নির্যাতনের অভিযোগে অতপর থানায় মামলা

0

মনিরুল ইসলাম, মহিপুর প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় দাদনের টাকা পরিশোধ না করার অপরাধে দুই জেলেকে ধরে এনে রশিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালিয়েছে এক দাদন ব্যবসায়ী ।অতপর নির্যাতিতরা ‘মৃধা ফিস’ মৎস্য আড়তের মালিক কুদ্দুস মৃধাকে প্রধান আসামী কলে ৫জনের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার কুয়াকাটা সংলগ্ন খাঁজুরা এলাকা থেকে জেলে হেলাল (২০) ও আবু তালেব (২৫) কে ধরে এনে কুয়াকাটার ‘মৃধা ফিস’ মৎস্য আড়তে তাদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে এ শারিরীক নির্যাতন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত অন্য জেলেরা প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি প্রভাবশালী আড়ৎদারের ভয়ে। পরে অচেতন অবস্থায় কয়েক ঘন্টা পরে টাকা দেবার প্রতিশ্রুতিতে বন্দিদশা থেকে কয়েক ঘন্টার জন্য তাদের মুক্ত করা হয়। এ খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের এস আই উত্তম এসে দুই জেলেকে উদ্ধার করে।আহত জেলেদেরকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ।

জেলে আবু তালেবের বড় ভাই মনির জানিয়েছেন, তার দুই ভাই মজনু ও আবু তালেব সহ অপর এক জেলে ইলিয়াসকে ২০১৩ সালে মৃধা ফিস ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাদন দেয়। পর্যায়ক্রমে তার দুই ভাইয়ের অংশের টাকা পরিশোধ করার পরে আট হাজার টাকা মৃধা ফিস পাওনা থাকে। মঙ্গলবার কুদ্দুস মৃধা তার লোকজন নিয়ে আবুতালেব ও তার ভাই হেলালকে ধরে গদিতে নিয়ে আসেন। এরপর তাদেরকে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে দিনভর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ নির্যাতন চালান দাদন ব্যবসায়ী কুদ্দুস মৃধা ও তার ভাগিনা মালেক। নির্যাতনে পর ওই দুই জেলের মা ময়না বেগম দাদন টাকা পরিশোধ করার শর্তে তাদের ছাড়িয়ে নেন।

দাদন ব্যবসায়ী আড়ৎদার কুদ্দুস মৃধা মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার দাদনের টাকা পরিশোধ না করে অন্যত্র মাছ বিক্রয় করছে। আমি টাকা চাইতে গেলে আমার ওপর হামলা করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মৎস্য শ্রমিকরা গিয়ে ওদের ধরে গদিতে আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার দুই জেলের মা ময়না বেগম জানান, কুদ্দুস মৃধা ও তার লোকজন তার ছেলেদের ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন শেষে রাস্তায় ফেলে রেখেছেন। তিনি টাকা পরিশোধ করার শর্তে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছেন।

এ বিষয় কুয়াকাটা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি রহিম খান জানান, জেলেদের কাছে দাদনের টাকা পেলে আড়তদার সমিতি,পৌর মেয়র অথবা আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। তা না করে জেলেদের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হওয়া খুবই দূ:খ জনক। জেলেদেরকে বেধে মারধরের বিষয়টি তিনি শুনেছেন,যা অমানবিক বলে জানান।

এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ওসি মাকসুদুর রহমান বলেন- এ ঘটনায় মহিপুর থানায় কুদ্দুস মৃধা সহ পাচ জনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে মামলা নং ১০/১৬। আসামীদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।