দুদক চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ পটুয়াখালীর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক আনোয়ার হোসেন দুদকের নাম ভাঙ্গিয়ে গড়েছেন বিপুল বৈভব

6

 

 

ডেস্ক রিপোর্ট : ক্ষমতার অপব্যবহার আর অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন দুনীতি দমন কমিশন (দুদক)’র আওতাধীন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পটুয়াখালী শাখার সাধারন সম্পাদক  এইচ এম আনোয়ার হোসেন এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। গত ৭/৮ বছরে তিনি পটুয়াখালী শহরের কেন্দ্রস্থল আদালত পাড়ায় জমি কিনে নির্মাণ করেছেন প্রাসাদপম ভবন, প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনটি ডায়গোনস্টিক সেন্টার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে রয়েছে লাখ লাখ টাকার শেয়ার, মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করলেও সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে বানিয়েছেন একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, হয়েছেন দুমকি প্রেসক্লাবের সভাপতি। রাতারাতি এতসব সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার পেছনে রহস্য কী? দুদকের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া এসব অবৈধ অর্থ-বৈভবের বিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে সাহস পাচ্ছেনা। বরং পটুয়াখালী দুদক অফিস চলে তার আঙ্গুলি নির্দেশে। দুদকের এক পদস্থ কর্তমকর্তাও তার কাছে ধর্ণা দেন নানা তদবিরে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে দুদক’র মত একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারন মানুষ আস্থা হারাবে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দুমকি উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের আব্দুল জলিল খান দুদক চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে প্রকাশ, জেলার দুমকি উপজেলাধীন মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামে ১৯৭৫ সালের ৪ জানুয়ারী জন্মগ্রহন করেন আনোয়ার। তার পিতার নাম মো: নুর মোহাম্মদ। আনোয়ার হোসেনের বাবা পেশায় ছিলেন একজন গোয়ালা। গ্রামের অন্যের গাভী দোহন করে বাজারে বিক্রি করে লাভের অংশ দিয়ে কোন রকমে চলত সংসার। আনোয়ার মুরাদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৯১সালে দাখিল (এসএসসি সমসান) পাস করে। ১৯৯২ সালের মাঝামাঝি পটুয়াখালী শহর থেকে প্রকাশিত প্রথম দৈনিক রুপান্তর সম্পাদক কে এম এনায়েত হোসেনের শরনাপন্ন হলে তিনি সেখানে হকারের চাকুরি দেন। পরে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের কাজে যোগ দিয়ে কাজ শুরু করেন একই পত্রিকায়। শহরের বিভিন্ন সেক্টরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সদর রোডস্থ একটি প্রেসের মালিক সাত্তার মিয়ার সাথে গড়ে তোলেন সখ্যতা।  তাকে পরামর্শ দেন একটি পত্রিকা প্রকাশ করতে। তার পরামর্শে ১৯৯৪ সালের দিকে প্রকাশ করে দৈনিক সাথী নামের একটি স্থানীয় দৈনিক। এখানেও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধির চাকুরি নিয়ে স্বপ্ন দেখেন এ পত্রিকার মালিক হতে। বিজ্ঞাপনের টাকা লোপাট করে হাতিয়ে নিতে থাকেন টাকা। মালিক সাত্তার মিয়ার সামনে তুলে ধরে লোকসানের বড় তালিকা। লোকসানের ঘানি থকে মালিককে মুক্ত করতে সুচতুর আনোয়ার তার কাছে পত্রিকাটি বিক্রির প্রস্তাব করেন। এক পর্যায়ে আনোয়ার পত্রিকাটির মালিকানা কিনে দেয় তার আত্মীয় জনৈক সৈয়দ জহিরুল ইসলামের হাতে। তিনি ঢাকায় থাকার সুবাদে আনোয়ার হয়ে ওঠেন পত্রিকারটির একচ্ছত্র মালিক। সম্পাদক হতে গেলে ন্যুনতম বিএ পাসের যোগ্যতা প্রয়োজন হলেও সনদ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দাখিল পাস আনোয়ার হয়ে ওঠেন পত্রিকাটির সম্পাদক। পরে শহরের কিছু লোকদের শরনাপন্ন হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে বাগিয়ে নেন দুদক’র পটুয়াখালী জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদকের পদটি। কমিটির সভাপতি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস সালাম বার্ধক্য জনিত কারনে সংগঠনের তেমন সময় দিতে না পারায় ২০০৮ সন থেকে আনোয়ারই এ সংগঠনটি এককভাবে পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

 

এদিকে, দুদক’র জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক পদটি পাওয়ার পরই আনোয়ার যেন সোনার হরিণ হাতে পায়। বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে থাকেন কারি কারি টাকা। শহরের আদালতপাড়ায় (ল’ কলেজের পশ্চিম পাশে) কেনেন ৪ শতাংশ জমি যেখানে প্রতি শতাংশ জমির দাম কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন ৫ তলা ভবন। এরপর পটুয়াখালী থানার পেছনে ডায়াবেটিক সমিতির সামনে গড়ে তোলেন বায়োসেভ নামের একটি ডায়োগনস্টি সেন্টার। তার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের নামে বেনামে সেটি গড়ে তোলার কথা মুখে মুখে রটালেও এর প্রকৃত মালিক আনোয়ার। বছর না ঘুরতেই দুমকি থানাব্রিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন বায়োসেভ’র আরও একটি শাখা। এরপর গত বছর পটুয়াখালী জেলা শহরের কলাতলা এলাকায় প্রতিষ্ঠা করে বায়োসেভ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কাম ক্লিনিক। এসব ব্যবসার পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে রয়েছে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার। এ ব্যবসা তার নিজের নামের পাশাপাশি তার স্ত্রীসহ আত্মীয় স্বজনের নামে। মূলত এসবের মালিক আনোয়ার নিজেই। বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে অগুনতি টাকা। জনশ্রুতি আছে সে নারী ব্যবসার সাথেও সম্পৃক্ত। পটুয়াখালী-ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এক শ্রেনীর নারী-পাগল কর্মকর্তা-ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের নিয়মিত নারী সাপ্লাই দিয়ে নগদ অর্থ, বদলীসহ নানা তদবির, ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে সিদ্ধহস্ত সে।  নিরপেক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসতে পারে আরও থলের বিড়াল।