দুমকিতে পাচারকারী সন্দেহে নির্যাতন

2

এম. রহমান, দুমকি ঃ পটুয়াখালীর দুমকিতে শিশু পাচারকারী সন্দেহে জাহিদ হোসেন (৩৬) নামের এক পল্লী চিকিৎসককে ২৪ঘন্টা আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। থানা পুলিশ ২৪ঘন্টার অবরুদ্ধদশা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর ক্রমাবনতি দেখে দ্রুত পটুয়াাখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে। গত শুক্রবার বিকেল ৫টায় উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান ও আরমিয়া নামের দু’যুবক শিশু পাচারকারীর অভিযোগ তুলে পল্লী চিকিৎসক মো: জাহিদ হোসেনকে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে আটকে রাখে। ২৪ঘন্টার অবরুদ্ধ থাকার খবর পেয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে থানা পুলিশ গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাঁর শারীরীক অবস্থার অবনতি দেখে রবিবার সকালেই পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এলাকায় সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়িতে রোগীর খোঁজ করতে যায়। এর মধ্যে ওই গ্রামের লিটন হাওলাদারের শিশু কন্যা নাইমা বেগম (১০)কে চিকিৎসার ছলে হাত ধরে চোখ, মুখ জিহ্বা বুকে যন্ত্র দিয়ে দেখে। গুরুতর রোগ আছে জানিয়ে চলে যায়। এরপর থেকেই নাইমা তার মা,বাবা ও পরিবারের অন্যান্যদের সাথে অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করে। এতে সবারই সন্দেহ জাগে। মুহুর্তে খবরটি জানাজানি হলে গ্রামে হুলুস্থল পড়ে যায়। বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় মজুমদারবাড়ি এলাকার রাস্তা থেকে ওই অপরিচিত পল্লী চিকিৎসক জাহিদ হোসেনকে ধরে নিয়ে কলবাড়ি বাজার এলাকায় গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখা হয়। পুলিশ খবর পেয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে গুরুতর অসুস্থ্যাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, অপরাধীকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে আটকে রাখা আর একটি অপরাধ। নির্যাতণ করার কারো অধিকার নেই। তাদের অন্যকোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

ইউপি সদস্য কাজী আবদুল ওহাব বলেন, শিশু নাইমার অসংলগ্ন আচরণই সন্দেহের কারণ হয়েছে।

গ্রামবাসীদের পক্ষে দুমকি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ সাধারণ ডায়রী হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহআলম জানান, আটক ব্যক্তি নাম জাহিদ হোসেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তি বাউফল উপজেলার কালিশুরী গ্রামে হলেও বর্তমানে কলাপাড়ার শশুর বাড়ি এলাকায় বসবাস করছে। তাঁর কাছ থেকে পল্লী চিকিৎসকের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ আজম খান ফরুকী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হয়ে ওঠার পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা পাওয়া যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, অপরাধ করলে তাকে পুলিশে না দিয়ে আটকে রাখার নেপথ্যে অসৎ কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।