দুমকির পায়রা নদীর নাব্যতা হ্রাস  নৌ-যান চলাচলে দুর্ভোগ

2

 

এম. রহমান, দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা নদীর ক্রমাগত নাব্যতা হারানোর ফলে ঢাকা-লেবুখালী-আমতলী-বরগুণা রুটের নৌ-যান চলাচল মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের লেবুখালী ফেরী পারাপারে। পায়রা নদীর বাঁকে বাঁকে জেগে ওঠা বিশাল বিশাল ডুবো চরে ঠেকে যাওয়ায় নৌ-যান ও ফেরী চলাচল মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। আর এতে দক্ষিনাঞ্চলীয় ছয় রুটের পরিবহনসহ সকল প্রকারের যানবাহন পারাপার ও নৌ-যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে  হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রমতে দুমকি উপজেলার বাহেরচর থেকে বরগুনার পুরাঘাটা পর্যন্ত পায়রা নদীর বাঁকে বাঁকে বিশাল বিশাল চর ও ডুবোচর জেগে ক্রমেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এমন নাব্যতা হ্রাসের কারনে নৌ-যান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে মারাত্মক ভাবে। বিশেষত: বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালী ফেরীঘাটে জেগে ওঠা কয়েকটি চরে আটকে ফেরীপারাপার ব্যহত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বাহেরচর, দুধলমৌ, আলগি, কানকি, ইটবাড়িয়াসহ অন্তত: ২০টি পয়েন্টে বিশাল চর জেগে ওঠায় এসব এলাকা দিয়ে দোতলা লঞ্চ-কার্গোসহ নৌ-যান চলাচলে বিঘেœর সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা-লেবুখালী-আমতলী-তালতলি রুটের যাত্রীবাহি  দোতলা লঞ্চটি প্রায়শই চরে আটকে যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। লেবুখালী ফেরীঘাটের দায়িত্বরত সুপারভাইজার আবদুল কুদ্দস জানান, পায়রা নদীতে জেগে ওঠা চরের কারনে ফেরী ঘাটে ভেরানো কস্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জোয়ারের সময় ফেরী পন্টুনে ভেরাতে পারলেও ভাটার সময় দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। খালি ফেরী কোনক্রমে পন্টুণে ভেড়ানো সম্ভব হলেও ৩/৪ টি বাস-মিনিবাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন ওঠানো হলেই ফেরী চরে ঠেকে যায়। যানবাহন বোঝাই ফেরী একবার আটকে গেলে তা পার হতে ২/৩ঘন্টাও লেগে যায়। অনেক সময় জোয়ারের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়ে। এতে দূর-পাল্লার পরিবহন যাত্রীদের সব চেয়ে বেশী দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এছাড়া মুমুর্ষূ রুগী পরিবহনের ্এ্যাম্বুলেন্স আটকে গেলে ভোগান্তির শেষ থাকে না। পায়রা নদীতে নাব্যতা সংকটের কারনে দক্ষিনাঞ্চলের এ রুটের সড়ক ও নৌ-পথে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। জরুরী ভিত্তিতে ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার  কোন উপায় নেই। তিনি আরও জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। পায়রা নদীর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এলাকাবাসী  পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়, নৌ-পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।