দুমকি-বাকেরগঞ্জ নদীতে জেলা পরিষদ সদস্য মৈত্রী নৌকা বাইচ

7

 

দুমকি প্রতিনিধি ঃ কবির ভাষায়, ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল। নদীমাতৃক দেশের নদী বিদৌত বরিশাল-পটুয়াখালীর মধ্যে ব্যবধান একটি শান্ত নদী। সৃষ্ঠ দূরত্ব কমাতে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এক সম্প্রীতি অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল নৌকা বাইচ ,জারী ও পালা গানের আসর।

পটুয়াখালীর দুমকি-বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বপূর্ন অটুট বন্ধনের অংশ হিসেবে সেতুবন্ধন তৈরিতে পটুয়াখালী-বরিশাল দুই পাড়ের মানুষদের ভ্রাতৃত্বপূর্ন আচরনের বহি:প্রকাশ বৃহদাকারে ফুটিয়ে তোলার নিরন্তর প্রচেষ্টায় বরিশাল জেলা পরিষদের ১৪নং আসনের সদস্য তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা মো. মাসুদ আলম খান এবং পটুয়াখালী জেলা পরিষদের ৪নং আসনের সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা, সাংবাদিক সৈয়দ ফজলুল হক এর পৃষ্ঠপোষকতায় ২রা বৈশাখ (শনিবার) বিকেল ৫টায় পাতাবুনিয়া-নলুয়া নদীতে জেলা পরিষদ সদস্য মৈত্রী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বর্ণাঢ্য ও মনোমুগ্ধকর এ আয়েজনে নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটি, দুমকি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা, দুমকী-বাকেরগঞ্জ উপজেলার আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এতে উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য নৌকা বাইচ খেলা দেখতে পাতাবুনিয়া-নলুয়া নদীর দুই তীর মুখরিত করে তোলে অসংখ্য আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। এবারের প্রতিযোগিতায় বাকেরগঞ্জ, দুমকি, মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৮টি নৌ দল অংশ নিয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টায় দুমকি উপজেলার কদমতলা নদী থেকে শুরু হয়ে নলুয়া ষ্টেশনে এসে শেষ হয়। যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বরিশাল জেলা পরিষদের ১৪নং আসনের সদস্য তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা মো. মাসুদ আলম খান এবং পটুয়াখালী জেলা পরিষদের ৪নং আসনের সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা, সাংবাদিক সৈয়দ ফজলুল হক। বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত পটুয়াখালী বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য মৈত্রী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ সদস্য সৈয়দ ফজলুল হক, বরিশাল জেলা পরিষদ সদস্য মাসুদ আলম খান, আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার, মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, দুমকি প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচএম আনেয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, জাসদ সভাপতি কেএম আনোয়ারুজ্জান চুন্নু, আয়োজক কমিটির আহবায়ক সৈয়দ জসিম, সদস্য-সচিব আবুল হোসেন, যুবলীগ নেতা আনিচুর রহমান ঝন্টু, সাংবাদিক কাজী দুলাল, নাঈম হোসেন, জোবায়দুল হাসান, হালিম মোল্লা, খলিলুর রহমান, হাবিবুর রহমান ভূইয়া, নান্না ভুইয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৮ বছর আগে স্বল্প পরিসরে একবার নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। দুমকী-বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইতিহাসে বিনোদনধর্মী এ জাতীয় অনুষ্ঠানে এটিই সর্বোচ্চ গনজমায়েত এর অনুষ্ঠান। আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, বিলুপ্ত প্রায় নৌকা বাইচের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং বাঙালির বাঙালিয়ানায় নিয়ে যেতে এমন অনন্য আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দু’তীরে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।