দুমকি লুথ্যারান হাসপাতালের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী জেল হাজতে চিকিৎসা কার্যক্রমে বিপর্যয়..

7

মজিবর রহমান, দুমকি প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী প্রসূতি মাও শিশু চিকিৎসা সেবার লুথ্যারান হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৩কর্মকর্তা-কর্মচারী জেল হাজতে থাকায় হাসপাতালটির আউটডোর, ইনডোর ও সাব-সেন্টার গুলোতে চিকিৎসা কার্যক্রমে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপকূলীয় সাব- সেন্টার তালতলি থেকে ফেরার পথে মঙ্গলবার রাতে চোলাইমদ পরিবহনের দায়ে পুলিশ তাদের আটক করে বুধবার কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। গাড়ীতে থাকা রিজার্ভ ড্রামে তৈলের পরিবর্তে চোলাই মদ  দেখে টিমের সদস্যরাই হতভম্ভ বনে যায়। কে বা কারা, কোত্থেকে আনলো এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর তাদের জানা ছিল না। পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ্দ করার পর আদালত ধৃতদের জেলে প্রেরণ করে।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ অফ এডমিন মি. ডেভিড ঘোষ বলেন, লুথ্যারান হেলথ কেয়ার পটুয়াখালীর দুমকিতে হাসপাতালের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী ও বরগুণার প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। বরগুণার তালতলি, বাউফলের সাবুপুরা, বাকেরগঞ্জের নলুয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাদের সাব- সেন্টারে সপ্তাহে ২দিন ভ্রাম্যমাণ টিম চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে। বরগুনার তালতলি সাব- সেন্টারে ঘটনার দিন সকাল-সন্ধ্যা আগত রুগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান শেষে সন্ধ্যা নাগাদ দুমকির গন্তব্যে রওয়ানা করে। কড়ইবাড়িয়া বাজার এলাকায় পুলিশ গাড়িটির গতিরোধ করে ঠিক তৈলের সেই ড্রামটিই জব্দ করে। ড্রামে চোলাই মদ পাওয়া যায়। গাড়িতে থাকা ৫কর্মকর্তা-কর্মচারীর পুরো টিমটিই অবৈধ পানিয় পরিবহনের দায়ে আটক হয়ে থানা হাজতে যেতে বাধ্য হয়। পুলিশ অবশ্য চিকিৎসকদ্বয়কে বিশেষ বিবেচনায় ছেড়ে দিলেও অপর ৩কর্মকর্তা-কর্মচারী আমিনুল হক (৪৫), সেন্টু (৪২) ও ড্রাইভার মাইকেল (৪৩) কে গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে প্রেরণ করেছে।

এদিকে লুথ্যারাণ হাসপাতালের দৈনন্দিন চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসক টিমের দায়িত্বরত ৩কর্মকর্তা জেল হাজতে থাকায় তালতলি, বাউফল ও নলুয়ার সাব- সেন্টারের বিনেমূল্যের চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গাড়ি চালক ও অন্যান্য টেকনিক্যাল পার্সনের স্বল্পতায় কর্তৃপক্ষ আপাতত: সাব- সেন্টার গুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে। এতে সাব- সেন্টার কেন্দ্র এলাকার শত শত প্রসূতি মা ও শিশু রুগীরা ফ্রি স্বাস্থ্য-চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। সাব- সেন্টার কার্যক্রম প্রসঙ্গে ডেভিড ঘোষ বলেন, জনবল স্বল্পতার কারনে আমাদের এ প্রোগ্রাম করতে সমস্যা হয়েছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে জটিলতা কাটিয়ে যথারীতি কার্যক্রম শুরু করা হবে।