দুর্নীতি বন্ধ হলে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ

3

রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, দেশে সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ হলে ২০২১ সাল কেন, ২০১৮-১৯ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত জুডিশিয়াল কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা একজন মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করছি। তাই বিষয়টি একান্ত মানবিকতার দৃষ্টিতে গভীরভাবে চিন্তা করে কাজ করতে হবে। সামান্য ব্যতিক্রমেও একটি মানুষের জীবন নষ্ট হতে পারে। এতে প্রশিকিউশন টিমের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের অধীনস্তদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার নির্দেশ দেন। র‌্যাব কিংবা পুলিশের মধ্যে অহমিকার বসে এক অন্যের দোষ ধরা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে র‌্যাব ও পুরিশের তদন্ত কাজে আন্তরিকতার সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে।’

র‌্যাবে যেসব পুলিশ অফিসার রিক্রুট করা হয় তাদের মামলা তদন্তের বিশেষ ট্রেনিং আছে। তাই তাদের দিয়ে তদন্ত করলে অবশ্যই সুফল পাওয়া যাবে। র‌্যাব স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করে বিধায় মামলা তদন্তে আরও আন্তরিক ও মনযোগী হওয়া প্রয়োজন। কারণ র‌্যাবের তদন্তে ক্রুটি অনাকাঙ্কিত। আইনের শাসন নিশ্চিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বিচারক-আইনজীবী-পুলিশসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলার বাদি-আসামিপক্ষকে ডাক্তারি সনদ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশেষ করে ডাক্তারকে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তার চেয়ারে বসেই যিনি লাশ কাটেন তাকে জিজ্ঞেস করে সনদ লেখার কাজ শেষ করেন। এ অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সাক্ষ্যপ্রমাণ সব থাকলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের কারণে শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, এমনভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে যাতে তার অনুশোচনা হয়।

চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ এস এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন মহানগর দায়রা জজ মো.শাহেনূর, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মো. মশিউর রহমান, সিএমএম শাহজাহান কবির, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল গণি, সিএমপি কমিশনার মোহা. আব্দুল জলিল মন্ডল, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-৭ এর পরিচালক লেপ্টেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার, সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ও জেলা পিপি এ্যাডভোকেট আবুল হাশেম প্রমুখ।