দুর্যোগকালীন মাঠ মহড়া, জনসচেতনায় রাখছে ব্যাপক ভূমিকা

1

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ  বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুকির মুখে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় প্রতি বছরই আঘাত হানে ছোট-বড়-মাঝারী মাত্রার ঘুর্নিঝড়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় জনপদ। গবাদি পশুসহ আবাদী জমির ফসল হয় নস্ট। ঘটে জীবনহানির মত ঘটনা। প্রাকৃতির এই নির্মমতাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে জীবনহানি রোধসহ ক্ষতির পরিমান কমিয়ে আনা সম্ভব। আর এজন্য প্রয়োজন জনসচেতনা বৃদ্ধি করা।

বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশীপ বাংলাদেশ সরাসরি দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে বসবাসকারী উপজেলার টিয়াখালী, লালুয়া, লতাচাপলী, ধুলাসর ইউনিয়নের অধিবাসীদের সচেতনতায় গ্রহন করেছে সমাজ পরিচালিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করন প্রকল্প। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় এই প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিস্ট ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় দুর্যোগ বিষয়ক মাঠ মহড়া। তুলে ধরা হয় অবহমান বাংলার চিরায়ত জীবনযাত্রার চিত্র। দুর্যোগকালীন সময়ের চিত্র আর দুর্যোগ বা ঝড়ের পরের নির্মম দৃশ্য। সিপিপির সেচ্ছাসেবকদের করনীয় এবং তাদের উদ্বার তৎপরতার চিত্র। নাটিকা আকারের খোলা মাঠে এ মহড়ায় সমাগম ঘটে নানা শ্রেনী, পেশা ও বয়সের শত শত মানুষের। যেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিচ্ছে সাধারন মানুষ আর সিপিপি’র সেচ্ছাসেবকরা।

ফেন্ডশীপ বাংলাদেশ কলাপাড়ার সিএমডিআরআর প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জুয়েল হাসান বলেন, ২০১৪ সাল থেকে প্রকল্পের আওতায় সাড়ে চার’শ পরিবারকে নানা প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে। পরোক্ষভাবে এর আওতায় আরো তিন হাজার পরিবার জড়িয়ে রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের দেয়া হয় পূর্ব-সতর্কীকরণ, অনুসন্ধান এবং উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ। দলীয় গতিশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশ, সুশাসন এবং কোড অব ইথিক্স বিষয়ক প্রশিক্ষণ। সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ, প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার বিষয়ক প্রশিক্ষণ। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ। আয় বৃদ্ধিমুলকসহ স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ। মাঠ মহড়ার ফলে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হচ্ছে সিপিপির সেচ্ছাসেবকরা। রোয়ানু, নাডার মত ছোট ঘুর্নিঝড়ে সেচ্ছাসেবক এবং মানুষের সচেতনায় এর ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।