দেশের নির্মানাধীন “পদ্মা সেতু” দেশ রতœ শেখ হাসিনা’র নামে নামকরন করা  হোক                             — সংসদে লুৎফুন নেছা এমপি

5

 

স্টাফ রিপোটারঃ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩১৪ মহিলা আসন-১৪ এর সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সদস্য আলহাজ¦ মিসেস লুৎফুন নেছা দশম জাতীয় সংসদের ১১তম অধিবেশন’র বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিবসে  রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করে দেশের সর্ববৃহত প্রকল্প নির্মনাধীন “পদ্মা সেতু” দেশ রতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এর নাম করনের প্রস্তাব করেন জাতীয় সংসদে। এ  প্রস্তাব মুহু মুহু করতালির মধ্যে অভিনন্দিত হয়। নি¤েœ তার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

 

 

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আসসালামু আলাইকুম,

মাননীয় স্পীকার, আপনাকে ধন্যবাদ। মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র জায়গায় দাড়িয়ে আমি, সর্বপ্রথম মহান আল্ল¬াহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। বাজেট আলোচনার  শুরুতে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, সেই সাথে স্মরণ করছি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবকে। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি জাতীয় চার নেতা ও বরিশালের মাটি মানুষের নেতা শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাদ সহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ, ১৫ই আগস্টে নিহত সকল শহীদান সহ দেশের জন্য সম্ভ্রম হারানো ২ লক্ষ মা বোনের  প্রতি।

মাননীয় স্পীকার,

এবারে আমি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ৩লক্ষ ৪০হাজার ৬শত ৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মাননীয় অর্থ মন্ত্রী যে বাজেট দিয়েছেন তা অত্যন্ত সময় উপযোগী বাজেট এবং গনমূখী। এ বাজেট যে গনমূখী হয়েছে তার প্রমান বাজার পরিস্থিতি। বিভিন্ন সময় আমরা দেখতাম বাজেট দেওয়ার সাথে সাথে বাজারের জিনিস পত্রের দাম বেড়ে যেত কিন্তু এবার বাজেটের পর দেশের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এর অর্থ এই বাজেট জনগনের কল্যানের বাজেট। এ বাজেট দেশ এগিয়ে যাওয়ার বাজেট এ বাজেট সুষমো উন্নয়নের বাজেট। এ বাজেট ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হওয়ার বাজেট। তাই এরকম একটি সুন্দর গনমূখী বাজেট প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় অর্থ মন্ত্রীকে আমার এলাকা পটুয়াখালী বাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

মাননীয় স্পীকার,

দক্ষিন অঞ্চলের মানুষের প্রানের দাবি পদ্মা সেতু নির্মাণ। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয় এখন বাস্তব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বের কারনেই আগামী ২০১৮ সালেই এ সেতু দিয়ে  দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ চলাচল করতে পারবে। মাননীয় স্পীকার আপনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ সহ দেশবাসীর কাছে আমার প্রস্তাব “পদ্মা সেতু” দেশ রতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নাম করন করা হোক। মাননীয় স্পীকার, পটুয়াখালী জেলার মানুষের দাবী পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা, সেটি স্থাপিত হয়েছে এবং ইতিমধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পটুয়াখালী বাসীর পক্ষ থেকে প্রান ঢালা অভিনন্দন। এছারাও পটুয়াখালী জেলায় বীজ উৎপাদন ও বিপনন কেন্দ্র, পায়রা সমূদ্র বন্দর স্থাপন এবং ১৩০০ মেঘা ওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পটুয়খালী বাসীর পক্ষ থেকে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতঞ্জতা জানাই।

মাননীয় স্পীকার,

এবারে আমি আমার এলাকা পটুয়াখালী জেলার কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

১। পটুয়াখালী জেলায় একটি বালিকা ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

২।  ঘুর্নিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ উপজেলা ও দুমকি উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেরীবাধ নির্মাণ ও পূনঃ নির্মান করার জন্য অনুরোধ করছি।

৩। ঘুর্নিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ উপজেলা ও দুমকি উপজেলার এলজিইডির মাধ্যমে কাঁচা রাস্তাসমুহ কার্পেটিং দ্বারা পাকা করার জন্য  অনুরোধ করছি।

৪। পটুয়াখালী জেলা সাগর পারের জেলা বিশেষ করে পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ-দুমকি উপজেলা এখানে লবন পানির প্রকোপ বেশী, তাই বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য এই এলাকায় ৫০০০ (পাচঁহাজার) গভীর নলকূপ স্থাপন করার জন্য জোড় অনুরোধ করছি।

৫। পটুয়াখালী-লোহালিয়া নদীর উপর এলজিইডির, চলমান সেতুর কাজ বন্ধ আছে এটি দ্রুত শেষ করার জন্য অনুরোধ করছি।

৬। পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ উপজেলা ও দুমকি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি।

৭। পটুয়াখালী সদর উপজেলা ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করছি।

৮। পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ উপজেলা ও দুমকি উপজেলার যে সকল স্কুল কলেজ ও মাদরাসা এম,পি,ও ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে সেগুলোকে এম,পি,ও ভুক্ত করার জোর দাবি জানাই।

৯।  পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ সড়কের পাযরা নদীতে পায়রা কুঞ্জ ফেরী ঘাটে জরুরী ভাবে দুটি নতুন ফেরী প্রদানের অনুরোধ করছি।

১০। পটুয়াখালীতে একটি বিমান বন্দর স্থাপন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

১১। পটুয়ায়াখালী জেলার সদর উপজেলা, দুমকি ও মির্জাগঞ্জে যে সকল স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় পাকা একাডেমিক ভবন নেই, সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে পাকা ভবন নির্মানের জোর দাবি জানাই।

১২। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের মুল ক্যাম্পাস জেলা শহরের বাইরে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের পাশে স্থাপন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

মাননীয় স্পীকার,

পরিশেষে, তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আরেকবার ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাকে এই মহান সংসদে আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। মাননীয় স্পীকার আপনাকে ধন্যবাদ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু,বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।