ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহকারি সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

7

গলাচিপা প্রতিনিধিঃ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের এক সহকারি সচিবের ইলিয়াস কবিরের (নন ক্যাডার) বিরুদ্ধে মসজিদ কবরস্থান ঈদগাঁহ মাঠ, মক্তব ও ইসলামী পাঠাগারের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব দুর্নীতির বিচার চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ মন্ত্রনালয়ে এলাকাবাসী অভিযোগ করলেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে রেলপথ মন্ত্রনালয়ে বদলি করা হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অনুদান শাখার গত ১৯ বছরের অক্টোবর সহকারি সচিব ইলিয়াস কবির স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেখা যায়, তার বাবা রশিদ মাষ্টার বাড়ি জামে মসজিদ গ্রাম- দক্ষিন পানপট্টি গলাচিপা,পটুয়াখালীর নামে ৫০ হাজার, একই বছরের ২৮ অক্টোবর তার দাদা তোজম্বর আলী হাং বাড়ির মক্তবের নামে ৩৫ হাজার, বাবা রশিদ মাষ্টার ইসলামিক ট্রাষ্টের নামে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের আদৌ কোন অস্তিÍত্ব নাই। এর আগে গত সাত মাসের মধ্যে তার নিজ বাড়িতে এমাদুল হক ইসলামিক পাঠাগারে ৫০ হাজার, বাবা রশিদ মাষ্টার ইসলামিক পাঠাগারের নামে ৫০ হাজার, রশিদ মাষ্টার জামে মসজিদের নামে ৪০ হাজার, রশিদ মাষ্টার ইসলামিক ট্রাষ্টের নামে ৩০ হাজার টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করেন। মসজিদ ছাড়া আর কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ওই বাড়ির বাসিন্দা ও পানপ্িট্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মসজিদ আগেই নির্মান করা হয়েছে। এতে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের কোন টাকা ব্যয় করা হয়নি। তিনি আরও জানান এক কবরস্থানকে তার দাদা, বাবা ও ভাইয়ের নামে গত ৭ মাসের মধ্যে ইলিয়াস কবিরের দাদার তোজম্বর আলী হাং বাড়ির কবরস্থান ৫০ হাজার টাকা, বাবা আ. রশিদ মাষ্টার বাড়ির কবরস্থানের নামে ৪০ হাজার টাকা, ভাই এমাদুল মেম্বার বাড়ির কবরস্থানের নামে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এক মসজিদ ও কবরস্থানকে তিনবার দাদা তোজম্বর আলী হাওলাদার, বাবা রশিদ মাষ্টার, ভাই এমাদুল মেম্বার দেখানো হয়েছে। নিজ বাড়ির নাম ঠিকানার স্থলে একবার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিন পানপট্টি আরেকবার তুলারাম গ্রাম লেখা হয়েছে। ভাই ও বাবার নামে অস্তিত্ববিহীন ইসলামী পাঠাগার, ট্রাষ্টের নামে টাকা তোলা হয়েছে। এছাড়া নানাবাড়ি, খালুবাড়িসহ অনেক আত্মীয়স্বজনদের বাড়ির মসজিদ, কবরস্থানের নাম দিয়েও টাকা তোলা হয়েছে। গত ১৪-১৫ অর্থ বছরে ১৯৩টি এবং ১৫-১৬ অর্থ বছরে ৩টি প্রকল্পে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তার ভগ্নিপতি গলাচিপা সদর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর মো. রফিক স্বাক্ষর দিয়ে এসব টাকার অধিকাংশ উত্তোলন করেছেন।ওই বাড়ীর বয়স্ক লোকেরা জানান,একই কবরস্থানের উন্নয়নে ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে ৩বার অর্থ বরাদ্দ করা হলেও একটি টাকাও ব্যয় করা হয়নি । সরেজমিন গেলে তারা আরও জানান, মন্ত্রনালয় থেকে অর্ধ বরাদ্দের এক অর্থবছর ইতিমধ্যেই পার হয়ে গেছে, আরেক অর্থবছর শেষের পথে এতো টাকা উত্তোলনের পর এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ইট বাড়িতে এসেছে। গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নের তোজম্বর আলী শিকদার বাড়ির গণকবরস্থান, বায়তুন নূর জামে মসজিদ দুই দফায় ৬০ হাজার অনুদানের ব্যবস্থা করেন।

জেলার দশমিনা এলাকার বাসিন্দা এ্যাড. আশরাফ হোসেনের লিখিত অভিযোগ, ইলিয়াস কবির তার নিজ বাড়ি ছাড়াও দশমিনা উপজেলার কোব্বাত আলী হাওলাদার বাড়ির ঈদগাঁ মাঠ ও কবরস্থানের নামে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু ওইস্থানে কোন ঈদেও নামাজ অনুষ্ঠিত হয়না। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাবেক এক পরিচালক, মেম্বার হেমায়েত উদ্দিন, তার বাবা হাজী সেরাজউদ্দিন, ছেলে নাসির উদ্দিন, মোনসোর আহমদ, এবং জহির হাওলাদার বাড়ির মসজিদ, কবরস্থান, ও ঈদগাঁয়ের নামে ভূয়া কমিটি করে অনুদানের টাকা আত্মসাত করেন। ইউপি মেম্বার হেমায়েত উদ্দিন সহকারি সচিব ইলিয়াস কবিরের ভগ্নিপতি হওয়ার সুবাদে সবাই মিলে টাকা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে সহকারি সচিব মো. ইলিয়াস কবির পটুয়াখালী জেলা গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিন পানপট্টি গ্রামের বাসিন্দা হলেও পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা হিসাবে কাগজপত্র জাল জালিয়াতি করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১৯৮৮ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে শাখা সহকারি পদে যোগদান করেন। এ মন্ত্রনালয় ওই সনের ১১ জুলাই শাখা সহকারি পদে নিয়োগের জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। এতে পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দাদের আবেদন করার সুযোগ ছিল না। ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা হিসাবে চাকরি নিলেও পরবর্তীতে সময় সুযোগ মতো তার নিয়োগ সংক্রান্ত ও ব্যক্তিগত নথিতে পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা হিসাবে জেলার নাম ঠিকানা কাটাকাটি করে কাগজপত্র ঠিক করেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশংকায় ব্যক্তিগত নথি থেকে তার চাকরির আবেদনটিই গায়েব করে ফেলেন। তার আবেদন পত্রে মন্ত্রনালয়ের কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল নেই।

জানা গেছে, মো. ইলিয়াস কবির চাকরিতে যোগদান করে সরকারি রেশন উত্তোলন করতে নিজেকে বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক দাবি আবেদন করেন। ১৯৮৮ থেকে ৯২ সনের নভেম্বরে বিবাহিত না থেকে ও ৪ সদস্যের রেশন উত্তোলন করেন। বিয়েই করেন ৯২ সনে। এ অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দুদকের পরিদর্শক (টাস্ক ফোর্স ৪) শাহীন আরা মমতাজ রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। দন্ড বিধি আইনের ৪২০/৪০৯/৪৬৮/৪৭১ এবং ১৯৪৭ সনের ২ নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় এ মামলা করে দুদক।

এ ব্যাপারে সহকারি সচিব ইলিয়াস কবির জানান, মসজিদ, কবরস্থান, পাঠাগারের টাকা তিনি বরাদ্দ দিলেও উত্তোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা জড়িত। মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি এবং অবৈধভাবে রেশন উত্তোলন বিষয়ে তিনি দাবি করেন,এগুলো অনেক পুরানো বিষয়, আদালত এ সমাধান দিয়েছে।