ধর্ষণের চার মাস পর অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ

5

গলাচিপা সংবাদদাতা ঃ পঞ্চাশোর্ধ বৃদ্ধ কর্তৃক ধর্ষণের পর চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর মো. আলী হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই মেম্বর তার স্ত্রী  চানভানু, মেয়ে লিপি বেগম ও গর্ভপাত ঘটানোর সঙ্গে জড়িত আমতলী উপজেলার নার্স নুরজাহান এবং আমখোলা ইউপি সদস্য রাশিদা বেগমের নাম উল্লেখ করে গলাচিপা থানায় কিশোরীর বাবা শাহ আলম চৌকিদার শনিবার একটি মামলা দায়ের করেন গলাচিপা থানার মামলা নং-৫ তারিখ ১৬-০৬-১৬। কিশোরীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য রোববার পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানগেছে, গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নের কালাই কিশোর গ্রামের সাবেক  ইউপি সদস্য মো. আলী হোসেন হাওলাদার ও ঘটনার শিকার কিশোরীর বাড়ি একই গ্রামে। কিশোরীর বাবা মো. শাহ আলম চৌকিদার পেশায় কাঠ মিস্ত্রী। গত ৯ মাস আগে ইউপি সদস্যের স্ত্রী চানভানু তার বাড়ির গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য কিশোরীকে নিয়ে যায়। এর কিছুদিন পর আলী হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী ঘরে না থাকার সুযোগে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এর পর কিশোরীটি বাড়ি এসে তার মাকে বিষয়টি জানায় এবং কাজে না যাওয়ার কথা বলে। এ ঘটনা মেম্বরের স্ত্রী চানভানুকে জানালে সে ভয়ভীতি দেখায়। এর কিছুদিন পর চানভানু আবার অনেক অনুনয় বিনয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটিকে তাদের (ইউপি সদস্যের) বাড়িতে কাজের জন্য নিয়ে যায়। পরে আবারও জোর পূর্বক কিশোরীটিকে ধর্ষণ করে ওই সাবেক ইউপি সদস্য। এক পর্যায় কিশোরীটি শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন দেখে তার (কিশোরীর) মা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি জানতে পারে। এ ঘটনাটি ইউপি সদস্য আলী হোসেন হাওলাদার ও তার স্ত্রীকে জানালে সে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয় যাতে এ ঘটনা কেউ জানতে না পারে। এর কয়েকদিন পর এ বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি ইউপি সদস্যের স্ত্রী চানভানু ও তার মেয়ে লিপি বেগম কিশোরীঁিটকে আমতলী উপজেলার নুরজাহান নার্সের বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভপাত ঘটায়। অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে নিয়ে বাড়ি আসলে লিপি বেগম ও একই এলাকার ইউপি সদস্য রাশিদা বেগম লোকজন নিয়ে শাহ আলম চৌকিদারের বাড়ি এসে ভয়-ভীতি ও নানা ধরণের হুমকি দেয় যাতে বিষয়টি প্রশাসন বা অন্য কেউ না জানে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আলী হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেও কথা বলেননি।অপর অভিযুক্ত আমখোলা ইউপি সদস্য রাশিদা বেগম জানান, এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।

এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে একটি  মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত চলছে।