নদীভাঙ্গনে পাল্টে যাচ্ছে বাউফলের মানচিত্র

4

PIC-11অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি : প্রমত্তা তেঁতুলিয়া ও কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে মেঘনার অববাহিকা বাউফলের মানচিত্র। নদী ভাঙ্গনে বাড়িঘর, ফসলি জমি, পুকুর, বাগান, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কবরস্থান ও খাদ্যগুদামসহ অন্যান্য সম্পদ বিলিন হয়ে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। সহায়-সম্বল হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার। নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরেজমিনে দেখে যাওয়া পানি মন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতিও কাজে আসছেনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রমত্তা তেঁতুলিয়ার করাল গ্রাসে নাজিরপুর ইউনিয়নের তাঁতেরকাঠী, নিমদি, ডালিমা, কেশবপুর ইউনিয়নের চর মমিনপুর, কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা, চরব্যারেট, চরকালাইয়া, ধুলিয়া ইউনিয়নের পুরানো লঞ্চঘাট, মঠবাড়িয়া ও তৎসংলগ্ন বাকেরগঞ্জের দিঘীরপাড়, সেনের বাজার এবং কাছিপাড়া ইউনিয়নে কারখানা নদীর অব্যহত ভাঙ্গনে পূর্ব ও পশ্চিম কাছিপাড়া, গোপালীয়া বাজার, চর রঘুনুদ্দি, কারখানা ও আমরখালী এলাকার প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভাসমান পরিবারের সংখ্যা। এক পরিসংখ্যাণে জানা গেছে, বাউফলের প্রায় ৪ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ মানুষই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন।

কাছিপাড়া ইউনিয়নের নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকার আ: খালেক হাওলাদার জানান, সর্বনাশা নদী ভাঙ্গনে লোকজনের ঘুম হারাম হয়ে গেছ। কোটি কোটি টাকার সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে নদী । নদী ভাঙ্গনের সুযোগে এক শ্রেণির ক্রেতা কমমূল্যে গাছপালা ও ঘরবাড়ি কিনে নিচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার। বদলে যাচ্ছে বাউফলের মানচিত্র।

পশ্চিম কাছিপাড়ার ওসমান গনী ও শাহীনারা বেগম জানান, বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ভাঙ্গনের কারণে তাদের গ্রামের অনেক পরিবার পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।

কাছিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খান বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বহুবার সরকারের উর্ধতন মহলের কাছে আবেদন-নিবেদন করলেও এ সমস্যা সমাধানে আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক, কেশবপুর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম তালুকদার ও কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ জানান, স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজের উদ্যোগে প্রায় এক বছর আগে বর্তমান সরকারের পানি মন্ত্রী বাউফলের নদী ভাঙ্গন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন। পরিদর্শনকালে পানিমন্ত্রী উপজেলার নূরাাইনপুর বাজারে এক পথ সভায় শিঘ্রই বাউফলের নদী ভাঙ্গনরোধে বেড়িবাধসহ অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখনো সে প্রতিশ্রুতির কোন বাস্তবায়ন হয়নি। ওই জনপ্রতিনিধিরা আরো জানান, নদী ভাঙ্গনরোধে শুকনো মৌসুমে কোন পদক্ষেপ না নেয়া হলে সত্যিকার অর্থে বাউফলের মানচিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে।