নদীভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়ার মানচিত্র

2

মোঃনাসির উদ্দিন গলাচিপাঃ রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙ্গনে ব্যাপক আকার ধারন করছে। নদীর পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট বেড়ে গেছে। এ কারণে নদীভাঙ্গন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় তীব্রতর রূপ নিয়েছে। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের নদীভাঙ্গান কবলিত এলাকার মোঃ হানীফ হাওলাদার, জলিল ঢালী, বাক্কু হাওলাদার, খোকা হাওলাদার, নাসীর মৃধা, ফুরতি মৃধা , বেল্লাল হোসেন, সোহাগ হাওলাদারসহ অনেকে জানান নদীর সর্বনাশা ভাঙ্গনে চালীতাবুনিয়াবাসীর ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এ ভাঙ্গনের ফলে কোটি কোটি টাকার সহায়-সম্পদ চিরতরে নদীতে হারিয়ে গেছে। সাগরপাড়ের উপকূলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলা বেশ কয়েকটি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রামনাবাদ, আগুনমুখা, ডিগ্রি দাড়চিরা, বুড়া-গৌরাঙ্গ নদী। এসব নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে বর্ধিক জনপদ। হারিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর, ধান , ফসলি জমি , পুকুর ,বাগান, বাজার, স্কুল, রাস্তাঘাট, সরকারি খাদ্যগুদামসহ অন্যান্য সহায়-সম্পদ। অব্যাহত ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। ছোট হয়ে আসছে বিভিন্ন এলাকার মানচিত্র। মূল ভূখন্ড ভেঙ্গে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন সময়ে বিত্তবান পরিবারগুলো জমি-জিরাত,  বাগান, পুকুর হারিয়ে পরিণত হয়েছে সহায়-সম্বলহীন উদ্বাস্ততে। ভাঙ্গনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উদ্বাস্তর সংখ্যা। উপজেলার প্রায় ৩ লাক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় দেড় লাখ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সূত্র ও সরেজমিন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে চালিতাবুনিয়ার গোলবুনিয়া, ছয়নম্বর, গরুভাঙ্গা, বিবির হাওলা, মরাজঙ্গী ৪ কিলোমিটার গ্রাম ও বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ফেলাবুনিয়া গ্রামের প্রায় ৩ কিলোমিটার আয়তনের এলাকা ডিগ্রি নদী পুরোপরি গ্রাস করে নিয়েছে। এখানে অবস্থিত সরকারী খাদ্রগুদামের দুটি পাকা ভবন, ১২ নম্বর গ্রামের একটি সাইক্লোন শেল্টারসহ তক্তাবুনিয়া, ছাতিয়ানপাড়া, কাটাখালী,তুলাতলী ও গাববুনিয়া গ্রামের অধিকাংশে পুকুর এবং বাড়ি নদীতে চিরতরে হারিয়ে গেছে। এদিকে গোলবুনিয়ার শাহজাদা মুফতি, ইদ্রিস গাজী, ইউপি সদস্য আলআমিন, শাফা মুফতি, মনসুর, তহসিন, সাইদুল, রিয়াদ, চাঁন খাঁ, ইছা গাজীসহ অনেকে জানান, এখনও যদি সরকার উদ্যোগ না নেয় তাহলে অচিরেই হারিয়ে যাবে রাঙ্গাবালী উপজেলার মানচিত্র তেকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি। গত এক দশকে নদীভাঙ্গনে রাঙ্গাবালী উপজেলার ৮ হাজার পরিবারের ৫৫ হাজার মানুষ উদ্বাস্ততে পরিণত হয়েছে। ৩২ হাজার একর ফসলি জমি, অসংখ্য বৃক্ষ সম্পদ,পুকুর, রাস্তাঘাট, অন্যান্য সহায়-সম্পদ চিরতরে নদীতে হারিয়ে গেছে। টাকার অঙ্কে এ ক্ষতির পরিমাণ ৩৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত ৫৫/৩ নম্বর পোল্ডারের প্রায় ৫ কিলোমিটার, চরমোন্তাজের ৫৫/৪ নম্বর পোল্ডারের ৩ কিলোমিটার এবং ৫৫/১ নম্বর পোল্ডারের ৪ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ নদীতে ভেঙ্গে গেছে। বদনাতলী লঞ্চঘাট সংলগ্ন ভেড়িবাঁধ পাকা রাস্তা ইতিমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সাতটি নদীর মিলনস্থল আগুনমুখা নদীমোহনায় স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময় থেকে জেগে ওঠা বিশাল চরের নাম কারফারমা। প্রায় ৫ হাজার একর আয়তন জুড়ে বিশাল এ চরের অর্ধেক এলাকায় বন বিভাগ সৃজন করে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। বর্তমানে নদীভাঙ্গনে বিশাল চরটি একটি ক্ষুদ্র দ্বীপচরে পরিণত হয়েছে। নদীভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় সরকারের কাছে বহু আবেদন-নিবেদন করলেও এ সমস্য সমাধানে আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।