নিজামপুর বাসীদের করুণ আর্তি- ‘আমাগো বাচান’॥

1

 

মনিরুল ইসলাম মহিপুর প্রতিনিধি ॥ মহিপুর থানা দিন মহিপুর ইউনিয়নের অবহেলিত দুটি গ্রামের নাম নিজামপুর ্ও সুধীপুর। সবুজ শ্যামল বাংলার ৬৮ হাজার গ্রামের মধ্যে দুর্গত এলাকা হিসেবে নিজামপুর, সুধীপুর অন্যতম। এলাকাটি আন্ধার মানিক নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় হওয়ায় ২০১৩ সালের দিকে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ বন্যানিয়ন্ত্রন বেড়ীবাধেঁর উপর প্রচন্ড আঘাত হানে। যাতে নিজামপুর, সুধিরপুর, কমরপুর, পুরানমহিপুর ও ইউসুফপুর গ্রাম প্লাবিত হয়ে এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল, মাছের ঘের, বাগানের বিাভন্ন প্রজাতির গাছ পানিতে ভেসে বঙ্গোপসাগরের অতল গর্ভে তলিয়ে গেছে। যা তৎকালিন সময় বিভিন্ন পত্রিকা ও গণ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা করে দেশবাসীকে দেখানো হয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে এলাকাটি দুর্গত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এখন পর্যন্ত টনক নড়েনি কর্তাব্যক্তিদের। ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে বেঁচে আছে ।

যার ফলে এর থেকে পরিত্রান পেতে বেড়ীবাঁধ নির্মার্ণের লক্ষ্যে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০টায় নিজামপুর সাইক্লোন শেল্টার কাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হল রুমে একটি সভার আয়োজন করেন।

আয়োজকরা এ সভার মাধ্যমে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পরিকল্পনা প্রণয়ন করে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করন বিষয় আলোচনা করেন।

সরেজমিনে গেলে শতবর্ষের আঃ আজিজ চৌকিদার বলেন, ’জঙ্গলকালে এই দেশে আইছি, হেই থেকে যত কষ্ট করছি সব পানিতে গিল্যা খাইছে, মোর পোলা হাফেজেরও বইন্যায় লইয়া গ্যাছে। ক্ষেত কোলায় একটা গুছিও দেতে পারি নাই, সরকারের কাছে মোগ দাবী শেষ ভিডাডায় কোন রহম মোরা একটু বাঁচতে চাই’।

বিধবা ফুলির মা‘ কান্না বিজড়িত কন্ঠে বললেন, ‘গ্যাছে বচ্চর মোর স্বামী সাগরে মাছ ধরতে যাইয়া আর ফির‌্যা আয় নাই। পোলাপান লইয়্যা যে বাড়িডায় থাকতাম তাও এহন সাগরে ভাইঙ্গা গ্যাছে, কোম্মে যে থাকমু হ্যার কোন দিগ দক্ষিণ নাই। সন্ধা হইলে মনে হয় জোয়ারের পানিতে মোগো লইয়্যা যাইবে’।

তাই এ অঞ্চলের হাজার হাজার লোকের জীবন ও শত শত একর ফসলী জমি রক্ষায় টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবী।

এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘নিজামপুরের বেড়ীবাঁধ নিয়ে আমারাও চিন্তিত কিন্তু রাস্তার জন্য যে জমি দরকার এলাকাবাসীরা তা দিতে চাচ্ছে না, ফলে আমরাও কাজ করাতে পারছি না’। তবে নিজামপুরের এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে তিনি জানান।