নির্যাতনের বিচার চান ভুক্তভোগীরা গভীর রাতে আবাসিক হোটেলে পুলিশের বেপরোয়া আচরণ

4

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালী পৌর শহরের একটি হোটেলে গভীর রাতে পুলিশ বেপরোয়া আচরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগীরা জানান,রাত তিনটার দিকে হোটেলের রুম থেকে বের করে বিনা কারনে আলমগীর নামে এক অতিথিকে মারধর করে পুলিশ। হোটেলর ম্যানেজার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে ব্যবসার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে কোন অভিযোগ করেননি বলেও জানান। পৌর শহরের সবুজবাগ মোড়ে অবস্থিত হোটেল সাফারী ইন্টার ন্যাশনালে রবিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

 

নির্যাতনে স্বীকার পরিবারের সদস্য কুয়াকাটার আলমগীর হোসেন জানান,তাদের পৈত্রিক একটি জমির দলিল কাজ সম্পাদন করতে তাদের পরিবারের ১২ জন সদস্য সবুজবাগ মোড়ের হোটেল সাফারী ইন্টার ন্যাশনাল হোটেলের ১০১,২০১,২০২,২০৩,২০৫ নম্বর কক্ষগুলো ভাড়া নেন। ২০৩ নম্বর কক্ষে তিনি এবং তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার , ২০৫ নম্বর কক্ষে মামা শ্বশুর মোঃ সোমেদ নজির, ২০১ নম্বর কক্ষে মামা শ্বশুর মোতালেব হোসেন, হানিফ ও আলগীর ১০১ নম্বর কক্ষে মামা শ্বশুর সুলতান হাওলাদারসহ ১২ জন মানুষ অবস্থান করেন। রাত তিনটার দিকে পটুয়াখালী থানার একদল পুলিশ হোটেলে ঢুকে তাদের কক্ষের দরজা খুলতে বলে। আলমগীর জানান তিনি দরজা খোলার পর পুলিশ তার রুমের নারীর পরিচয় জানতে চান। তিনি তার স্ত্রীর পরিচয় দিলে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। আলমগীর জানান, তিনি তার সাথে হোটেলের অন্য কক্ষে অবস্থানরত মামা শ্বশুরদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। মামা শ্বশুরা তারা স্বামী-স্ত্রী নিশ্চিত করার পরও পুলিশ আলমগীরকে মারধর করে। মামা শ্বশুর মোতালেব ও হানিফা জানান,তারা বারবার পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের সাথে থাকা বৃদ্ধ লোকজনও জমির কাগজপত্র পর্যন্ত দেখিয়েছেন কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। পুরো ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছেন তারা। সাংবাদিকদের আলমগীর আরো জানান,জমির রেজিষ্ট্রী করার কাজে এসে এভাবে পুলিশের হাতে নাজেহাল হতে হবে তা কোন দিন কল্পনাও করেন নি তিনি। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সামনে এভাবে অপমানিত আলমগীর বিমর্ষ হয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিচার চান।

 

এ বিষয়ে হোটেলের ম্যানেজার আবদুল মোতালেব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,পুলিশ হোটেলে আসলে তাদের করার কিছু থাকে না। অতিথিদের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের কোন কিছু করনীয় রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন নি তিনি।

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, হোটেল সাফারীর অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবী করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ জানান, অভিযানে তিনি নিজেই ছিলেন। একই সময়ে হোটেলের দুই এবং তিন তলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি তলা থেকে স্বামী-স্ত্রী নয় এমন দুজনকে আটক করে পুলিশ। দোতলায় পুলিশের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরন করার কারনে আলমগীর নামের একজনকে একটি চড় মেরেছে পুলিশ সদস্যরা। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক তাদের সরি বলেছেন। পুলিশ কাউকে এভাবে চড় দিতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,কোন ভাবেই পারে না। আর সে কারনেই তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি আসলে ভুলবোঝাবুঝি।##