নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ দুমকিতে একদিকে মৎস্য বিভাগের অভিযান অপরদিকে নির্বিঘ্নে চলছে মা ইলিশ শিকার

2

এম. রহমান দুমকি ঃ পটুয়াখালীর দুমকিতে মা ইলিশ সংরক্ষনের সরকারী নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দেদারছে শিকার করা হচ্ছে মা-ইলিশ। একদিকে চলছে মৎস্য বিভাগের অভিযান ঠিক তাঁর উল্টো দিকে জেলেরা নির্বিঘেœ শিকার করছে মা-ইলিশ। ধীর গতির অভিযান ট্রলারে নাগাল পাচ্ছেনা জেলেদের। মান বাঁচাতে ঘাটের পরিত্যক্ত নৌকা-জাল জব্দ করার প্রতিযোগিতা করছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ৮দিনের এমন ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত ২৪হাজার ৬মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল এবং ৪টি জেলে নৌকা আটক করা হলেও থামেনি ইলিশ শিকার।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলার পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশের অভয়ারণ্য খ্যাত রাজগঞ্জ-চান্দখালী, আলগির হাজিরহাট, লেবুখালী, পশ্চিম আংগারিয়া, বাহেরচর, কদমতলা, পাংসিঘাট, সন্তোষদি, চরগরবদি ও কলাগাছিয়ার জেলে পল্লীগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বইছে। নৌকা-জাল ঠিকঠাক করে দিনে-রাতে সমান তালে চলছে ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। চোখ-কান সবার খাড়া। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা যেন তাদের কাছে থোরাই কেয়ার। মানছে না কেউ- মোবাইল ফোনের সংকেতে ভিন্ন ভিন্ন যায়গায় লুকানো নৌকা-জাল নিয়ে দ্রুত নদীতে নেমে পড়ছে। অভিযানের ট্রলার দেখা মাত্র তীরে ওঠে পথচারী হয়ে যায়। এভাবেই চলছে নিষেধাজ্ঞাকালীণ ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। সূত্রটি জানায়, নিষিদ্ধকালীণ সময়ে জেলেদের আহরিত শ’ শ মন ইলিশ প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্দিষ্ট পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। পাইকারদের নিকট স্বজনের বাড়িতে বাড়িতে ককশেডে বরফজাত করে মওজুদ করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময় কেটে গেলে তা খোলা বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যেই মওজুদ করা হচ্ছে। অভিযান প্রশ্নে সূত্রটি জানায়, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের প্রতিটি অভিযানের আগাম খবর নিশ্চিত হয়েই জেলেরা নৌকা জাল নিয়ে নদীতে যায়। অভিযানের ট্রলারের গতিবিধি লক্ষ্য রেখেই জেলেরা জাল ফেলে এবং সময় মতো তুলে নেয়। ট্রলার যে দিকে যায় তার বিপরীত দিকের জেলেরা তখন নদীতে নিশ্চিন্তে জাল ফেলে। মাত্র ১ থেকে দেড় ঘন্টা সময়ের মধ্যেই জালে মাছে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য বিভাগের একজন অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারী সখ্যতা ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট জেলের মোবাইল ফোনে আগাম মেসেজ দিয়ে দেয়। আর এ কারনেই বিশেষ অভিযানে ওইসব জেলেরা ধরা পড়ছে না। বাধ্য হয়ে অভিযানে নামা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা মান বাঁচাতে জেলেদের ঘাটে বাঁধা পরিত্যক্ত নৌকা এবং ডাঙ্গার জাল টেনে হেচড়ে নিয়ে জব্দ করেন। উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত থেকে টানা আট দিনের বিশেষ অভিযানে ২৪হাজার ৬মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল এবং ৪টি জেলে নৌকা আটক করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পায়রা তীরবর্তি লেবুখালী ফেরী ঘাটের বাসিন্দা আবদুল রশিদ প্যাদা, মনির হোসেন হাওলাদার, সহিদুলসহ অনেকেই ক্ষোভের সাথে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে মৎস্য বিভাগের অভিযান টিম লেবুখালী ঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে আলগি-রাজগঞ্জ অভিমুখে রওয়ানা দিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই ওইসব এলাকার জেলেদের মোবাইলে মেসেজ পৌছে যায়। অপরদিকে বিপরীত দিকে কোন অভিযান নেই সে মেসেজও একই লোক মারফত পৌছে যায়। ফলে অভিযানে নামা ট্রলারের সামনের জেলেরা সটকে পড়ে আর পেছনের জেলেরা নিশ্চিন্তে রাতভর মা-ইলিশ শিকারের উৎসবে মেতে ওঠে। দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, মাত্র ১টি টিমের পক্ষে ২০/৩০কি.মিটার নদী একই সময়ে নিয়ন্ত্রনে রাখা খুবই দু:সাধ্য ব্যাপার। যে দিকে যাই বিপরীত দিকে ফাঁকা থেকে যায়। তবে অভিযানে ৪টি নৌকা ২৪/২৫হাজার মিটার জাল জব্দ করার পর অনেকাংশেই জেলেদের জাল ফেলার প্রবণতা কমেছে।#