নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মির্জাগঞ্জে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা

4

 

মোঃ বাদল হোসেন, মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফসলী জমির উপর গড়ে উঠেছে ইটভাটা। এ সকল ইট ভাটার কালো ধোয়ায় মারাতœক ভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে পরিবেশ আর বিভিন্ন রোগে ভুগছেন এলাকার মানুষ। নষ্ট হচ্ছে ব্যাপক গাছ-পালা ও ফসল। স্থানীয়দের অভিযোগ এ সকল ইটভাটার মালিকগন ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৩ অমান্য করে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী চিমনি স্থাপন না করে নিজেদের খেয়াল খুশিমত চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অবৈধ ব্যবসা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে উপজেলা ডোকলাখালী গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্প,হাটবাজার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সামাজিক বনায়ন ঘেসে গড়ে উঠেছে হাওলাদার ব্রিকফিল্ড নামে একটি ইটভাটা। যার মালিক ওই এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। ইটভাটা পরিচালনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র,প্রত্যায়নপত্র,বি.এস.টি.আই এর সনদপত্র,ফায়ার সার্ভিসের ফিটনেস সনদপত্র ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোনটিই মানছেন না এই ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তার ইটভাটায় নেই স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এ ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় এলাকার বাতাস দূষিত হওয়ার ফলে চর্ম রোগ, শ্বাসকষ্ট,হাপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিভিন্ন রোগে ভুগছেন গবাদী পশু। ইটভাটা স্থাপনের প্রথম বছরই এ সকল অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় এ ইটভাটা। পূনরায় আবার চালু করলে ইটভাটার মালামালসহ প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রী করে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। তবে ইটভাটা পরিচালনার লক্ষে বৈধ কোন কাগজপত্র ছাড়াই বর্তমানে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন ইটভাটা। স্থানীয়রা আরও জানান,এই জমিতে বছরে দু’বার ফসল পাওয়াসহ মুগডাল,মুসুরি ডাল,বাদাম,আলুসহ বিভিন্ন সবজীর চাষ হত কিন্তু বর্তমানে কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক।

এ ব্যাপারে হাওলাদার ব্রিকফিল্ড (ইটভাটা) মালিক মোঃ আলতাফ হাওলাদার বলেন,২০১৫ সালে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি ছাড়পত্র নিয়েছি। বর্তমানে লাইসেন্স ও ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে তিনি ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

নিয়ম অনুযায়ী দু’ফসলি জমিতে ইট ভাটা স্থাপন করা নিষেধ, এবং ফসলী জমির মাটি কেট ইট ভাটা করা যাবে না। এটি প্রতিহত করতে না পারলে এক সময় কৃষিতে বিপর্যয় নেমে আসবে বলে জানালেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,যদি অবৈধ ভাবে কেহ ইট ভাটা পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দশমিনায় চাল বিতরনে  অনিয়মের অভিযোগ