নেই কোন আইনি পদক্ষেপ উপকূলীয় চরাঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে চলছে কাঁকড়া নিধনের হিড়িক

4
SAMSUNG CAMERA PICTURES
SAMSUNG CAMERA PICTURES
SAMSUNG CAMERA PICTURES

সোলায়মান পিন্টু, কলাপাড়া : আইনি কোন বিধি নিষেধ না থাকায় পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় প্রজনন মৌসুমে অবাধে চলছে ডিমওয়ালা কাকঁড়া নিধন। জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এ সময় সাগর নদীর লোনা পানিতে স্ত্রী কাঁকড়া ডিম ছাড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি ডিম ছাড়ে মাঘ মাসের প্রথম অম্যাবসায়। ডিমওয়ালা কাকঁড়ার কদর বেশী থাকায় ও অধিক লাভের আশায় এক শ্রেনির জেলেরা এই মৌসুমে কাকঁড়া ধরতে ব্যস্ত হয়ে পরে। এভাবে ডিমওয়ালা কাকঁড়া নিধন অব্যহত থাকলে দেশ অর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

এলাকার কাকঁড়া ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে সিঙ্গাপুর, নেপাল, থাইল্যান্ড, হংকং, চীনসহ বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এসব উৎসবে ডিমওয়ালা কাঁকড়ার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। সে কারনে ডিমওয়ালা কাকঁড়ার চাহিদা ও দাম বেশি হয়ে থাকে । তাই বেশি লাভের আশায় বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষা কুয়াকাটা, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর, খালগোড়া, ঢোস, তালতলী, নিউপাড়া, রাঙ্গাবালীর মৌডুবি, কোরালিয়া, নিচকাটা, বড় বাইশদা, ছোট বাইশদা, জাহাজমারা চরে এক শ্রেনির জেলেরা অবাধে ডিমওয়ালা কাকঁড়া নিধন করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাদু পানির চার প্রজাতি ও লবণাক্ত বা আধা লবণাক্ত পানির ১১ প্রজাতিসহ দেশে এখন পর্যন্ত মোট ১৫ প্রজাতির কাঁকড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সাইলা সিরাটা নামের কাঁকড়ার বাণিজ্যিক চাহিদা অনেক বেশি। এগুলো ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে বেশি পাওয়া যায়। স্থানীয় অনেক জেলে একে শিল কাঁকড়াও বলে থাকে। এই শিল কাকঁড়াসহ অলিভিসিয়া, প্যারামসিন, ট্রাংকুবুরকিয়া নামের কাকঁড়া এই অঞ্চলের জেলেরা বেশি শিকার করে থাকে।

কাকঁড়ার আড়ৎদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, কাঁকড়া প্রজনন সময়ে জেলেরা সাগর-নদীতে কারেন্ট, বেহুন্দিসহ ছোট ফাঁসের নানা জাল দিয়ে মাছ শিকার করে। এই জালে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ডিমসহ কাকঁড়ার রেনু । তাই কাকঁড়ার প্রজনন সময়ে ছোট ফাঁেসর জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করা উচিৎ।

কাঁকড়ার অপর আড়ৎদার শাহজাহান পাহলান বলেন, এখন ডিমওয়ালা কাঁকড়া বেশি ধরা পড়ছে। শুনেছি আন্তর্জাতিক বাজারে ডিমওয়ালা কাঁকড়ার দাম ও চাহিদা বেশি। তাই ঢাকার আড়তেও এসব কাকঁড়ার চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন এলাকার অন্তত ৫০টি কাঁকড়ার আড়ত থেকে ৮০-১০০ মণ কাঁকড়া ঢাকায় চালান করা হয়।

জেলে আলতাফ মিয়া জানান, সারাদিন কাঁকড়া ধরে ৩’শ থেকে ৪’শ টাকা পাই। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও সংসার মোটামুটি ভালই চলে।

কলাপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রতিটি পূর্ণ বয়সের স্ত্রী কাঁকড়া ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ ডিম ছাড়ে। অভয়াশ্রম না থাকায় ও জলবায়ু পরিবর্তনে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হওয়ায় মাত্র ১০ শতাংশ ডিম পূর্ণাঙ্গ গ্রেডে পরিণত হয়। কাঁকড়ার ডিম পূর্ণতা পেতে দু-তিন মাস সময় লাগে। এ খাত টিকিয়ে রাখতে হলে প্রজনন সময়ে কাঁকড়া ধরা বন্ধ করতে হবে।

কলাপাড়ার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান , মৎস্য রক্ষা সংরক্ষণ আইনে কাঁকড়া ধরা সম্পর্কে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রজনন সময় দেশে কাঁকড়া আহরন বা বাজারজাত বন্ধ করা উচিত।

###