ন্যায় বিচার না পেয়ে যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের

1

 

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়াপ্রতিনিধিঃ ন্যায় বিচার না পেয়ে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী এলকার ডিম ব্যবসাী আলিম (৩৫)। এ ঘটনায় আলিমের ভাই সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দশজনকে আসামী করে কলাপাড়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মহিপুর থানাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলসহ ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দিয়েছেন। মামলা নম্বর এম পি-৬২/১৭। তারিখ  ৯মে ২০১৭।

মামলার বিবরন ও বাদী সহিদের বক্তব্যে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত আলিমের সাথে একই এলাকার স্বপন বিশ্বাস ও মহিপুরের পনু গাজীর সাথে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব চলছিল। স্বপন বিশ্বাসের ছেলে প্রিন্স বিভিন্ন সময় তার ভাইয়ের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল। দাবীকৃত টাকা না দিলে তাকে প্রাননাশের হুমকীও দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ফার্মের মুরগীর জন্য দু’বস্তা খাবার নিয়ে স্বপন বিশ্বাসের ছেলে প্রিন্সের সাথে বাক-বিতন্ডা হয়। আলিম ২৪ এপ্রিল রাত ১১ টার দিকে আলীপুর থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে মাইটভাঙ্গা সুইজ গেটের পূর্ব পার্শ্বে গাজী বাড়ি এলাকায় আসলে স্বপন বিশ্বাস ও মহিপুরের পনু গাজী, ছেলে প্রিন্স, হাসিবসহ অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে মারধর করে তার সাথে থাকা টাকা নিয়ে যায়। আলিমের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। মারধরের পরের দিন সকালে চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লার কাছে গেলে তিনি ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যদের না ডেকে আলীপুরের সিদ্দিকের ছেলে হামলাকারী হাসিবকে ডেকে বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেন। ফলে ন্যায় বিচার না পেয়ে অভিমানে আলিম ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, আলিমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্দিকের ছেলে হাসিবকে ডেকে তাৎক্ষনিকভাবে বেত্রাঘাত দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোন ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেবার কথা বলে দিয়েছি। আলিমসহ অন্যদের বিকালে আসতে বলেছি। কিন্তু আলিম আসেনি। পরে জানতে পারলাম আলিম বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। বাদী সহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিন সন্তানের জনক আলিমের স্ত্রী বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।  করছে মানবেতর জীবন যাপন । এরমধ্যে মামমলার আসামীরা তাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়-ভীতিসহ প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও হাতে পাইনি। পেলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।