পটুয়াখালীতে অবিরাম বর্ষণে ব্যাপক ক্ষতি

3

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীতে ৩ দিনের অবিরাম বর্ষণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে লোকজন। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রবিবার ও ছিল । অতি বৃষ্টির কারণে আমান ধান ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ক্ষেত,নষ্ট হয়েছে শাক-সবজির চাষ। তলিয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাছ চাষের পুকুর। শহরের প্রধান সড়কে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়ে জনগণের চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এ বর্ষণের ফলে বেশ কয়েকটি সড়ক এখন নাজুক পর্যায়ে ঠেকেছে। এছাড়া আমন ধানে শীষ আসার আগ মুহূর্তে এ ধরনের দুর্যোগ ধান ফলনের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি অফিস। অবিরাম বর্ষণের ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি  বলে  জানায়  জেলা কৃষি অফিস।

বাউফল উপজেলা ঃ বাউফল উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৩৭ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার  হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ও ১৭ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল আমান চাষ করা হয়েছে। আহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধান বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা  দেখা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরোয়ার জামান জানান, আমরা মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের এ ধরনের দুর্যোগের পূর্বাভাস দুদিন আগেই দিয়েছিলাম। চাষিদের ক্ষেতের পানি নিষ্কাশন করতে বলা হয়েছে। তবে যে জমির ধানগাছ শুয়ে পড়েছে, তার ৩৫ ভাগ ধান নষ্ট হলেও বাকিটা ভালো থাকবে বলে আশা করা যায়।

গলাচিপা উপজেলা ঃ বঙ্গোপসাগরে নি¤œচাপের প্রভাবে গলাচিপায় অসময়ে লাগাতার ভারী বর্ষন ও ঝড়ো বাতাসে উঠতি আমন ধানের গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এতে অনেক ধান ঝড়ে পড়েছে। ধান গাছ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও দুই থেকে তিন ফুট পানি জমে গেছে ক্ষেতে। কৃষকদের সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে যেসব ধান গাছের থোড় হয়েছে সেগুলো মাটিতে শুয়ে পড়ায় প্রচুর পরিমানে চিটা হয়ে যাওয়ার আশংকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। বৃষ্টিতে ধানের ফুল ঝড়ে পড়ায় পরাগায়ন না হওয়ায় আরও শংকিত হয়ে পড়েছে তারা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে উফশী ও স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। অসময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন ধানের বেশ ক্ষতি হওয়ার আশংকার কথা তারা স্বীকার করেন।

দশমিনা উপজেলাঃ  গত তিন দিনের প্রবল বর্ষনে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অর্ধশতাধিক গরু-মহিষের মৃত্যু এবং ২’শ ফুট রাস্তা বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত শুক্র,শনি ও রোববারের প্রবল বর্ষনে উপজেলার দুই হাজার একর জমির আমন ধান গাছ ভেঙ্গে পানির নিচে ডুবে গেছে, দশমিনার চরাঞ্চল থেকে গরু নিয়ে কাটাখালী আসার সময় বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে শনিবার বিকালে নৌকা ডুবিতে কালু ফকির নামে ১ যাত্রী নিখোঁজ হয়। প্রবল বর্ষনে চরহাদির বেল্লাল সরদার,মজিবর সরদার,অলিউল ইসলাম,নজরুল গাজী ও মাহবুব রাঢ়ির ৪০ টি গরু-১২ টি মহিষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে চরবোরহানে সাইক্লোন শেল্টারের দক্ষিনে গুচ্ছ গ্রামের দিকে যাওয়ার কাচা রাস্তা পানির ¯্রােতে ২’শ ফুট ভেঙ্গে গেছে। নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ কালু ফকিরের খোঁজে তার স্বজনরা নদীর তীরে ট্রলার নিয়ে খোঁজ চালাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার বনি আমিন জানান, প্রবল বর্ষনে শতকরা ২০/২৫ ভাগ আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে।