পটুয়াখালীতে আউশের বীজ সংকট বিপাকে কৃষক

2

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার রতনদি-তালতলী ইউনিয়নের কামার হাওলা গ্রামের কৃষক মোখলেস এ বছর রবি মৌসুমে নিজের ও পরের জমি মিলিয়ে ১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। এতে তার খবচ হয়েছিল ১১ লাখ টাকা। ফলনও  ভালো হয়েছিল।  কিন্তু পাঁচ দিনের অতিবর্ষণে তরমুজ পানিতে ডুবে যায়। এতে ক্ষেতের সব তরমুজ নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরেন তিনি। তবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবছর মৌসুমের শুরুতেই আউশ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেন তিনি । কিন্তু বীজ কিনতে  বাজারে গিয়ে সরকারি বীজ (বিএডিসি’র) খুঁজে পান নি।  বাজারে এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বীজ পাওয়া গেলেও তার দাম অনেক বেশি। ফলে মোখলেস আবারও ক্ষতির মুখে পরেছেন। কৃষক মোখলেস  জানায়, তরমুজ চাষ করে লোকসান হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে আউশের প্রতি তার আগ্রহ বেড়েছে। বিএডিসির বীজের কেজি ৩৬ টাকা। কিন্তু বাজারে নেই। গলাচিপার বাজারে খুঁজে পাওয়া যায়নি।  জেলা শহরে এসেও বিএডিসির বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে বেসরকারি কোম্পানির কিছু বীজ  পাওয়া যাচ্ছে, তবে দাম চাওয়া হচ্ছে  কেজি ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা ।  এই অবস্থায় কৃষক আবারও ক্ষতির মুখে পরার আশংকা দেখা দিয়েছে। জেলার সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাদারবুনিয়া গ্রামের কৃষক মজিবর হাওলাদার বরি মৌসুমে পাঁচ একর জমিতে মুগডাল চাষ করেন। এতে তার খবরচ হয়েছিল ৩২ হাজার টাকা। তবে অতিবৃষ্টিতে  মুগডাল ক্ষতিতেই নষ্ট হয়ে যায়। তিনিও বীজ সংকটের কারণে আউশ আবাদ করতে পারছেন না।  কৃষক  জানায়, বাজারে  বিএডিসির বীজ পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে কম দামে ভালো বীজ পাওয়া যেত, এতে লাভবান হতো কৃষক। কৃষক মোখলেস ও মজিবর হাওলাদারই নয় জেলায় পাঁচ দিনের অতিবর্ষনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের অধিকাংশই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আউশের  প্রতি ঝুঁকলেও সরকারি বীজ সংকট থাকায় তারা বেশি দামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বীজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে পটুয়াখালী জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকায়  বিএডিসির নির্ধারিত ডিলার ‘কৃষি ঘর’ এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, এই দোকানে বিএডিসির বীজ নেই। দোকান মালিক মজিবর রহমান জানান, তাকে বিএডিসির ৫০০ কেজি বীজ দেওয়া হয়েছিল। তা দুই দিনেই বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এবছর  আউশ বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এলাকার চাহিদা মেটাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বীজ কিনে এনে এখন বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, পটুয়াখালী কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে আউশ মৌসুম শুরু হয়েছে, চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। এবছর জেলায় ২৯ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর জন্য ৭৩৩ মেট্রিক টন বীজের  প্রয়োজন।

এদিকে বীজ সংকট প্রসঙ্গে বিএডিসি, পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক (বীজ বিপনন) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আসলে প্রণোদনায় বীজ বরাদ্দ থাকে। একারণে বাজারে বীজের সরবরাহ কম। এবছর জেলায় ২৬ টন আউশ বীজ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিন টন বীজ কৃষকের কাছে সরাসরি বিক্রির জন্য  বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে। আর প্রনোদনায় দেওয়া হয়েছে ২৩ টন।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক  ড.নজরুল ইসলাম মাতুব্বর  বলেন, টানা পাঁচদিন বৃষ্টিতে রবি ফসলের  ক্ষতি হয়েছে। কৃষক এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবছর আউশ চাষের উপর  আগ্রহ বেড়েছে। ইতিমধ্যে আউশের বীজতলা তৈরি শুরু হয়েছে।  জেলায় চার হাজার ২০০ কৃষক পাঁচ কেজি করে আউশ বীজ  হিসেবে পাচ্ছেন। তারপরও বিএডিসির বীজ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে কৃষক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত অতি বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষেত ডুবে রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে মুগ, খেসারী, ফেলন, মরিচ, তিল, চিনাবাদাম, আলু ও তরমুজ ক্ষেত ডুবে থাকায় ফসল পচে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। সরকারি হিসেবেই জেলায় ক্ষতির পরিমান ৩৯২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক  ড.নজরুল ইসলাম মাতুব্বর।