পটুয়াখালীতে ঈগল লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবি; ১জন নিহত, আহত ২

3

pic-2

চিনময় কর্মকার : পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি ঈগল-৩ এর ধাক্কায় ডুবেগেছে একটি পন্যবাহী ট্রালার। শনিবার ভোর ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনায় জামাল নামে এক মাঝি নিখোঁজ হয়। ঘটনার চার ঘন্টা পর নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই জন। নিহত জামাল গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামের নুরু গাজীর ছেলে। আহতরা হলেন মিরাজ মৃধা ও ফকু খাঁ। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঈগল-৩ লঞ্চটি আগে থেকে নোঙ্গর করে থাকা জ্বালানী কাঠ বহনকারী ট্রলাটিকে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি দুমড়ে মুচড়ে ডুবে যায় এবং ট্রলারে ঘুমিয়ে থাকা তিন জন নদীতে পড়ে গেলে জামাল নিখোঁজ হয় এবং বাকি দুইজন মিরাজ মৃধা (৩০) ও ফকরুল খাঁ (২৫) নদীতে সাঁতার কেটে তীরে উঠলে তাদের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করে। এদের মধ্যে মিরাজের অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ট্রলারটি গলাচিপা থেকে জ্বালনী কাঠ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে ঢেউখালী এফ খান ইটভাটায় এসে নদীর তীরে নোঙ্গর করে ছিল।

বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানান, শনিবার সকালের দিকে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী ডাবল ডেকার যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি ঈগল-৩ এর ধাক্কায় লোহালিয়া নদীতে নোঙ্গর করে থাকা জ্বালানীকাঠ বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ওই ট্রলারের মাঝি জামাল নিহত হন ও দুজন মাল্লা আহত হন। অত্যাধিক কুয়াশা ও চালকের অসাবধানতা দুর্ঘটনাটির কারন হতে পারে।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, এমভি ঈগলের রুট পারমিট দেয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের নিয়মনীতি অনুসরন করা হয়নি। বিআইডব্লিউটি কতৃপক্ষ বিশেষ সুবিধা গ্রহন করে লঞ্চটির রুট পারমিট প্রদান করে। এ নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা বিচারাধীন আছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ লঞ্চটি তাদের হেফাজতে রখেছে, নিহত জামালের বাবা নুরু গাজী বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

#