পটুয়াখালীতে টাকা ছাড়া মিলছে না বই

3

Untitledডেস্ক রিপোর্ট : পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীরা বই বিতরন উৎসবে বিনামূল্যে বই সংগ্রহ করতে পারছেনা। টাকা দিয়ে তাদের বই সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতেকরে একদিকে সরকারের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি শিশুরা প্রভাবিত হচ্ছে এসব কর্মকান্ডে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট……

বিশেষ প্রতিনিধি : বাউফলের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত টাকা ছাড়া বই হাতে পায়নি। টাকা দিতে না পারায় বহু শিক্ষার্থী মনকস্টে বই উৎসবেও যোগ দিতে পারেনি। বিদ্যালয়গুলোর এহেন আচরণে ভিষনভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে সরকারের ভাবমূর্তি এবং ক্ষুব্ধ হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শুক্রবার ও গতকাল শনিবার বাউফলের ৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি বই বিতরণের দিন ধার্য ছিল। সে অনুসারে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে বই আনতে গেলে নতুন শ্রেণিতে ভর্তি না হলে এবং বই সংগ্রহের খরচ বাবদ ২০০ টাকা না দেয়া পর্যন্ত বই দেয়া হবে না বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়। এখবরে শিক্ষার্থীরা হতভম্ব ও বিমর্ষ হয়ে পরে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ অভিভাবকদের টাকা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসার জন্য খবর দিলে কোন-কোন অভিভাবক টাকা দিয়ে তাদের সন্তানদের বই ছাড়িয়ে নেন।

কেশবপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হাবিব মেম্বর জানান, বাজেমহল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণিতে ফারজানা ও হামিদা নামে তার দুই মেয়ে পড়ে। টাকা দিতে না পারায় তাদেরকে বই না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। একই স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র রিক্সাচালক মজিবরের ছেলে জিহাদ, কৃষক লিটন সিকদারের ছেলে নাঈম, রাশেদুলের ছেলে জাহিদ, হাসান মিয়ার ছেলে রাকিব ও মোয়াজ্জেম সিকদারের ছেলে ৮ম শ্রেণির ছাত্র এনাম টাকার জন্য বই পায়নি বলে তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন। কালাইয়া হায়াতুন্নেচ্ছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতি শিক্ষার্থীদের থেকে ৫২০ টাকা হারে ভর্তি ফি ও বই আনার খরচ নিয়ে বই দেয়া হয়েছে বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ জানিয়েছেন। এভাবে বাউফলের মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বইয়ের জন্য বিভিন্ন হারে টাকা আদায় করে যাচ্ছেন। অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বছরের প্রথম দিন বিদ্যালয়ে গিয়ে টাকার জন্য শিশুরা বই না পেয়ে ভিষনভাবে মর্মাহত হয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।

বই দেয়ার সময় টাকা আদায়ের ব্যাপারে বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: শহিদুল হক জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বই বাবদ কোন টাকা নিতে পারবেননা। তবে বকেয়া বেতন কিংবা সেসন ফি ইত্যাদি নিতে পারেন। যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বইয়ের জন্য টাকা নিয়ে থাকেন তবে তদন্ত করে ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গলাচিপা প্রতিনিধি : গলাচিপায় বিনা মূল্যের বই বিতরণে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কল্যানকলস বিআর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফকরুল আলমের বিরুদ্ধে উঠেছে বই দিতে টাকা নেয়ার অভিযোগ। অভিভাবকদের অভিযোগ বই নেয়া সময় ছাত্র প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা নেয়া হয়েছে। টাকা না দিলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বই দেয়া হয়নি। পরে অভিভাবকদের চাপের মুখে টাকা ছাড়াও কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফকরুল আলম বই বিতরণে টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ছবি তোলার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আ.ছত্তার জানান, বই দিয়ে কোন টাকা আদায় করা যাবেনা। যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।