পটুয়াখালীতে ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর এর বিরুদ্ধে যুব প্রশিক্ষনার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

4

 

 

pic-3ডেস্ক রিপোর্ট : পটুয়াখালীতে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, আবাসিক প্রশিক্ষণের নামে ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান ও কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার কামাল হোসেন প্রশিক্ষনার্থীদের খাবারের ও সম্মানী ভাতার অর্থ আত্মসাতের রমরমা ব্যবসা করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানাগেছে,  যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে বিভিন্ন ট্রেডে আড়াই মাসের কোর্সে প্রতি ব্যাচে ৬০ প্রশিক্ষনার্থীর প্রশিক্ষন চলছে। এক বছরে ২৪০ জন যুবক ও যুবতিকে হাঁস মুরগি পালন, প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ, কম্পিউটার সহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষন প্রদানের টার্গেট রয়েছে। জনপ্রতি প্রশিক্ষানার্থীকে  দৈনিক ৪০ টাকা হারে আবাসিক থাকার বিপরীতে খাবার বাবদ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রশিক্ষনার্থীই পাচ্ছেনা এ সুবিধা। ৫-৭ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ ক্লাসে উপস্থিত ও আবাসিকে রেখে বাদবাকী সকল প্রশিক্ষনার্থীর বরাদ্ধকৃত ভাতার অর্থ ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান ও কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার কামাল হোসেন দুইজন মিলে আত্মসাৎ করে আসছে এমন অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশিক্ষানার্থীর । এই দুর্নীতির বিষয়ে  ২৮ ও ২৯ তম ব্যাচের প্রশিক্ষনার্থীরা লিখিতভাবে একাধিকবার অভিযোগ প্রেরন করলেও  অজ্ঞাত কারণে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় হতে কোন ধরনের ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। গতকাল ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ চলাকালে মাত্র ২৯ জন প্রশিক্ষনার্থীকে  উপস্থিত দেখা গেছে। এদের মধ্যে মধ্যে ৫ জন ব্যতীত অন্যরা অনাবাসিক ভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এ বিষয়ে ২৭ ও ২৮ তম ব্যাচের প্রশিক্ষনার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী ৫-৭ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি ও আবাসিকে রেখে অনাবাসিক ও ভুয়া নাম দেখিয়ে নাম স্বর্বস্ব সনদ প্রতি ব্যাচে বিলি করা হয়। আর এভাবে প্রতি আড়াই মাসের ব্যাচে ৫০-৬০ জন প্রশিক্ষনার্থীর নামে বরাদ্ধকৃত খাবারের অর্থ ও সম্মানী ভাতার অর্থ ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার কামাল হোসেন পারস্পারিক যোগসাজসে আত্মসাৎ করে চলেছেন।

এব্যাপারে পটুয়াখালী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রশিক্ষন বিষয়ক আমার আয় ব্যয়ের ক্ষমতা নাই। প্রশিক্ষনের আয় ব্যয়ের সম্পূর্ন ক্ষমতা  ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান সাহেবের। এ ব্যাপারে সংশ্লিস্ট দপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লেখা হয়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান সাহেব প্রশিক্ষানার্থীদেরকে উপস্থিতির বদলে অনুপস্থিতি থাকতে উৎসাহিত করেন। অনুপস্থিতির হার বেশী হলে বেশী টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান এর জানতে চাইলে তিনি অর্থ আত্মসাতের কথা অস্বীকার করে বলেন মঙ্গলবার প্রশিক্ষনে ৩২জন ছিল। ৬০ জন ভর্তি করতে পারি নি। মোবাইলে সব বলা যায়না অফিসে আসেন …..। অনিয়ম ও অর্থআত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোরদাবী করেছেন সংশ্লিস্ট  একাধিক প্রশিক্ষনার্থী।