পটুয়াখালীতে বরিশাল আঞ্চলিক আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধন আমরা সবাই মিলে আবৃত্তি চর্চা করি আমাদের অঙ্গন থেকে সন্ত্রসের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই -হাসান ইমাম

1

pic-1

চিনময় কর্মকার : আমরা প্রেমের কবিতা আবৃত্তি করলে মানুষের মন কোমল হয় তখন সেই মানুষ আর হাতে অস্ত্র তুলে নিতে পারে না। সেজন্যই আবৃত্তি চর্চা, গান, নাচ, নাটক, চলচিত্র সবকিছুর মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানবতার কথা যদি আমরা বলি, যদি কোন বানিজ্যিক উদ্যেশ্যে আবিল আবৃত্তি আমরা না করি, বিকৃত রুচির গান আমরা না করি, বিকৃত অঙ্গভঙ্গীতে আমরা না নাচি। যাতে আমাদের বিপক্ষের লেকেরা না বলতে পারে এরা অপসংস্কৃতির চর্চা করে এদের রোধ করা উচিৎ। আমরা সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করবো, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে সেকেন্ডারি যে স্কুল গুলো আছে সেগুলির শিক্ষক দের বলবো আপনার বিদ্যালয়ে যে সকল ছেলেমেয়েরা রয়েছে তাদের আবৃত্তি করা শেখান এতে তারা কোমলমতি হবে তারা আর অস্ত্র ধরবে না, আমরা সবাই মিলে আবৃত্তি চর্চা করি আমাদের অঙ্গন থেকে সন্ত্রসের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই। পটুয়াখালীতে বরিশাল আঞ্চলিক আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেছেন দেশ বরণ্য সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব নাট্যজন হাসান ইমাম।

গতকাল শুক্রবার থেকে পটুয়াখালীতে শুরু হয়েছে দুদিন ব্যাপী বরিশাল আঞ্চলিক আবৃত্তি উৎসব। সকাল ১০টায় পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সভাপতি মন্ডলীর সদস্য গোলাম সারোয়ার এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশ বরণ্য সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব নাট্যজন হাসান ইমাম। তিনি আরও বলেন ইসলাম বলে যে গোলাপকে ভালোবাসতে না পারে সে মানুষ না, সে ধর্ম কি করে মানুষকে হত্যা করতে বলতে পারে। আজকে যারা আমাদেরকে মুরতাদ বলে তারা অনেকে বলেন যারা ধর্মের নামে কুৎসা করছে সেই গুনাহগারদের মারছে। এই কদিন আগেও কাগজে তালিকা বেরিয়েছে সেই তালিকার একজনও কিন্তু ধর্মের নামে কুৎসা করেননি। না আনিসুজ্জামান করেছেন , না মুনতাসির মামুন করেছেন, না শাহারিয়ার কবির করেছেন, না আমি করেছি। আমরা তো ধর্মের নামে কুৎসা করিনি, তাহলে এটা একটা উসিলা, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে আমাদেরকে জন বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা জামাতের বিরুদ্ধে বলেছি। জামাতে ইসলাম তো রাসুলের ইসলাম না, মওদুদির ইসলাম তো আমাদের প্রকৃত ইসলাম না, জামাতে ইসলাম একটি রাজনৈতিক দল। তাদের বিরুদ্ধে বললে কি করে ইসলামের বিরুদ্ধে বলা হয়। মানুষকে তারা বোঝাতে চেষ্টা করছে জামাতের বিরুদ্ধে যারা বলে, যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বলে তারা ঠিক নয়। কাবা হচ্ছে আল্লাহ্র ঘর কিন্তু জামাত বলে পাকিস্তান আল্লাহ্র ঘর, ধর্মের নামে তারা হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। যারা জামাতের বিপক্ষে বলছে তারা যদি দোষী হয় আইন তাদের বিচার করবে, কিšÍ তারা আইনকে সম্মান না দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হত্যাকান্ড করছে। যারা এই হত্যাকান্ড করছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করছে ধর্ম রক্ষার জন্য করছেনা আজকে যে বিচার হচ্ছে সে বিচার ব্যাবস্থাকে বন্ধ করার জন্য তারা কাজ করছে। সেজন্যই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। বাঙ্গালী সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের এগিয়ে আসতেই হবে। রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করার জন্য আমরা আন্দোলন করেছি পাকিস্তান আমলে নজরুল কে রক্ষা করতেও আমাদেরকে আন্দোলন করতে হয়েছে। আমাদের বন্ধুরা হয়তো না জানতে পারে আমাদের শত্রুরা জানে আমাদের শক্তির উৎস কোথায়। শত্রুরা জানে আমাদের শক্তির উৎস রবীন্দ্র নজরুল তাই সেখানেই তারা কোপ দিয়েছে তাই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জয়যুক্ত হয়ে আমরা রবীন্দ্র নজরুলকে স্বমহিমায় আমাদের সংস্কৃতিক জগতে প্রতিষ্ঠিত করেছি।

উৎসবের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার। উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট আফজাল হোসেন, আবৃত্তি উৎসবের আহবায়ক প্রফেসর এম. নুরুল ইসলাম পটুয়া খেলাঘর আসরের সভাপতি প্রফেসর এম নুরুল ইসলাম, সহকারি পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি স্বপন ব্যানাজী কেন্দ্রীয় আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের বেলায়েত হোসেন, আজমল হোসেন লাবু এনামুল হক বাবু প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পটুয়াখালী পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বর্নাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্র বের হয়ে শহরের প্রধাণ প্রধাণ সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কর্মশালায় অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন জেলার আবৃত্তি শিল্পীরা। বিকেলে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করেন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন দল ঢাকা থেকে আসা আবৃত্তি শিল্পীবৃন্দ। ২৮ নভেম্বর রাতে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষনা করা হবে।