পটুয়াখালীতে হাইজিন প্রসারের জাতীয় কৌশলপত্র অবহিতকরন শীর্ষক কর্মশালা

1

pic-3

 

মশিউর রহমান বাবলু : পটুয়াখালীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে হাইজিন প্রসারের জাতীয় কৌশলপত্র-২০১২ অবহিতকরন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এবং পটুয়াখালী ডেভেপমেন্ট অর্গাইজেশন (পিডিও) এর সহযোগিতায় হাইজিন কৌশলপত্র অবহিতকরন শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক। বাংলাদেশ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের জন্য প্রণীত পলিসি সার্পোট ইউনিটের স্থানীয় সরকার বিভাগ এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) কাজী আবদুর নূর এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার, জেলা পরিষদ প্রশাসক খান মোশারফ হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ এ এম মজিবুল হক। উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্যানিটেশন অবকাঠামোর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করন বিষয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পলিসি সার্পোট ইউনিট স্থানীয় সরকার বিভাগ উপ-সচিব আঃ রউফ। এছাড়া কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নজরুল ইসলাম, পটুয়াখালী পৌর মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম, গলাচিপা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আঃ মোতালেব হাওলাদার, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন ব্যার্নাজী প্রমুখ।

জেলা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, জনপ্রতিনিধিগন, এনজিও প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

#

কলাপাড়ায় গর্ভবতী ও প্রসুতি নারীর স্বাস্থ্য সেবা হুমকীর সম্মুখীন

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনেস্থেসিয়া ডাক্তারের অভাবে ৫ মাস ধরে সিজিরিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় হতদরিদ্র গর্ভবতী ও প্রসুতি নারীর স্বাস্থ্য সেবা হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক রোগীদের জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পিত পরিবার গঠন, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু হার রোধ কল্পে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাতৃসদন নির্মান করা হয়। বর্তমান সরকার গর্ভবতী মা ও প্রসুতি মায়েদের চকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সটিকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উর্ন্নীত করে। নিরাপদ সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করার জন্য কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। কিন্তু গত জুন মাসের শেষদিকে এনেস্থেসিয়া ডাক্তার মো. গোলাম ফরহাদকে ডাক্তারদের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে অন্যত্র বদলী করে দেওয়ার পর থেকে অদ্যবধি এখানে এনেস্থেসিয়া ডাক্তার নিয়োগ না দেয়ায় সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা গর্ভবতী ও প্রসুতী মায়েরা প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোর দালালদের খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়া কলাপাড়া হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন ডাক্তারের সাথে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর গোপন সখ্যতা থাকায় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তাররা রোগীদের পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছেন। এ সুযোগে প্রাইভেট কিøনিকগুলো রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে বিপুল পরিমানে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দুর-দুরান্ত এলাকা থেকে আসা হতদরিদ্র রোগীরা হাসপাতালে এলে কর্তৃপক্ষ এনেস্থেসিয়া ডাক্তার নেই বলেই তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন। এসময় এক শ্রেণীর দালাল রোগীদের ফুঁসলিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠিয়ে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কীমের সুবাধিভোগী অস্বচ্ছল গর্ভবতী ও প্রসুতি মায়েরা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে বিনামূল্যে কোন সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দরিদ্র নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়া কলাপাড়া হাসপাতালের শিশু বিষয়ক অভিজ্ঞ ডাক্তার মো: রেফায়েত হোসেনকে কুয়াকাটার তুলাতলি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করায় হাসপাতালটিতে শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অভিভাবকরা বিপাকে পড়ছেন।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. লোকমান হাকিম জানান, প্রতি মাসে এনেস্থেসিয়া ডাক্তারের জন্য রিপোর্ট করে যাচ্ছি। এছাড়াও মোবাইল ফোনেও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করি শীঘ্রই কলাপাড়া হাসপাতালে এনেস্থেসিয়া ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কলাপাড়া প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোর মধ্যে কলাপাড়া ডায়াগনেষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক এবং নিউ হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরিশাল, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তাররা এসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিজারিয়ান অপারেশন করছেন। এরমধ্যে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য প্রশাসন কলাপাড়া ডায়াগনেষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়ার পর লাইফ কেয়ার-২ ক্লিনিকের কর্মকর্তারা সিজারিয়ান ব্যবসার নিমিত্তে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।#