পটুয়াখালীতে ১৭৮ মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দূর্গা উৎসব আড়ম্বর পূর্ণ উৎসব আয়োজনে প্রস্তুত প্রশাসন ও উদযাপন পরিষদ

1

 

চিনময় কর্মকার ঃ হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব। আর মাত্র পাঁচ দিন পরেই শুরু হবে এ উৎসব। পটুয়াখালী জেলায় সদর উপজেলা সহ ৮টি উপজেলায় ১৭৮টি মন্ডপে  শারদীয় দূর্গ পূজা আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। তাই মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা রং করার শেষ মুহুর্তের কাজ, পাশাপাশি সাজসজ্জার কাজেও ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পীরা। সেই সাথে চলছে মন্ডপ তৈরী ও আলোকসজ্জার কাজ। আড়ম্বর পূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের জন্য এখন প্রস্তুত জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলে।

গতকাল দুপুরে পৌর এলাকার সকল পুজা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন পৌর মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম। পূজা আড়ম্বরপূর্নভাবে উদ্যাপন করার লক্ষ্য প্রতি মন্ডপে পচিশ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকারের সভাপতিত্বে গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত সভায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে নিরাপদ, নির্বিঘœ ও  আনন্দঘন পরিবেশে পালনের জন্য সভায় ২২টি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার বলেন, প্রতিটি পূজা মন্ডপে ৮জন করে আনসার সদস্য সার্বক্ষনিক মোতায়ন থাকবে। এর বাইরে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করা হবে পূজা মন্ডপগুলো ঘিরে। পুলিশ সুপার মোশফিকুর রহমান বলেন,পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সাদা পোশাকের পাশাপাশি পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়ন থাকবে। সেইসাথে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করবে ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে।

PIC-4নদীবেষ্টিত পটুয়াখালী পৌর শহর সংলগ্ন খেয়াঘাটগুলো যেন পূজার দিনগুলোতে সারা রাত যাত্রী পারাপার করে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পৌরসভাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। দূর্গাপুজায় আলোকসজ্জার প্রয়োজনীয়তা থাকায় পূজা চলাকালীন সময়ে প্রয়োজনে দিনে লোডশেডিং দিয়ে রাতে লোডশেডিং কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুজামন্ডপের এছাড়া কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি মম্বিপাড়া নিরঞ্জন শীলের বাড়ি ও চাকামইয়া শান্তিপুর সার্বজনীন দুর্গা পুজা মন্ডপ দুটি লেকালয় থেকে অনেকটা দুরে হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ন হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গলাচিপা উপজেলার আমখোলা বাদুরা হাট সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরটি বিরোধ পূর্ন জায়গায় স্থাপিত হওয়ায়, সেখানে আশেপাশের বাড়ির লোকজন বর্জ অপসারন করে থাকেন। পূজা চলাকালীন সময়ে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

পটুয়াখালী পৌর শহরস্থ হিন্দু সমাজ গৃহ-এর দূর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্যামল চন্দ্র শীল জানান, আমাদের এখানে প্রতিমা রং-এর কাজের পাশাপাশি মন্ডপ সজ্জ্বা ও আলোকসজ্জ্বার কাজ চলছে। দূর্গাপূজা একটি সার্বজনীন ও ব্যায় বহুল উৎসব আমরা এখন অনুদান সংগ্রহে ব্যাস্ত। পটুয়াখালী পৌরসভা থেকে প্রতি মন্ডপে পচিশ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম। পটুয়াখালীবাসী আমরা সবাই যারযার নিজের ধর্ম পালন করলেও উৎসবে সবাই এক হয়ে যাই এ বছ্েরও তার ব্যাত্যয় হবে না। তবে দেশের শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ঘোষণার পর পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা আরম্ভ হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে একটি মহল আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা আশংকা বিরাজ করছে। আশা করছি, প্রশাসন এ ব্যপারে সজাগ থাকবেন। যেহেতু এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির দেশ তাই সকলেই এ উৎসবে সাবলীল ভাবে অংশগ্রহন করবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি এড. কমল দত্ত জানান, এ বছর পটুয়াখালী জেলায় মোট ১৭৮টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২৩ টি, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৮ টি, দুমকি উপজেলায় ৮ টি, বাউফল উপজেলায় ৬৫ টি, দশমিনা উপজেলায় ১৬ টি, গলাচিপা উপজেলায় ২৬ টি, কলাপাড়া উপজেলায় ১৫টি ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৭টি পুজা মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের থেকে এবছর তিনটি পুজা মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি আরও জানান, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এ শারদীয় দূর্গোৎসব হচ্ছে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্র, এখানে জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকলে আনন্দ উপভোগ করেন। কুয়াকাটায় মন্দির এবং মসজিদের পাশাপাশি সহাবস্থান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতায়  কেনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবের দিনগুলো ভালোভাবে  কাটবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।