পটুয়াখালীতে ৯ ঘন্টায় ২০৬ মিঃ মিটার বৃষ্টিপাত 

0

স্টাফ রিপোর্টারঃ গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে সঞ্চালনশীল মেঘমালা উত্তর বঙ্গোপসাগরে চলে আসার কারণে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ভাড়ী বর্ষনের কারনে পটুয়াখালী শহরের অধিকাংশ সড়ক গুলোতে এক থেকে দেড় ফুট পানিতে ডুবে যায়। রবিবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত  ৯ ঘন্টায় ২০৬.০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিাপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষনের কারনে পটুয়াখালী শহরের অধিকাংশ সড়ক ও এলাকায় এক থেকে দেড় ফুট, কোথাও দুই ফুট পানিতে ডুবে যায়। রেকর্ড পরিমান ভারী বৃষ্টির ফলে  জেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে সকল ফসলের ক্ষেত। স্থল নি¤œচাপের কারনে সমূদ্রবন্দর পায়রায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং অভ্যন্তরিন নদীবন্দরে ২ নম্বর নৌ হুশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নৌ দূর্ঘটনা এড়াতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৬৫ ফুটের নীচের ছোট সব নৌযান চলাচল।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো. রাহাত হোসেন জানান, রবিবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত  ৯ ঘন্টায় ২০৬.০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিাপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের এক দিনে মাত্র ৯ ঘন্টায় এই পরিমান বৃষ্টি পাতের কোন রেকর্ড নেই বলেও জানান আবহাওয়া অফিস। এদিকে  মেঘমালার প্রভাবে ও ভারি বর্ষনের ফলে নদী সমূহে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শহরের কলেজ রোড, বনানী, মুসলিম পাড়া সড়ক, পৌরসভা সড়ক, কাজী পাড়া সড়ক, পিটিআই সড়ক, শিমূলবাগ, পুরানবাজার জনতা ব্যাংক সড়ক, পুরান বাজার, সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জুবিলী স্কুল সড়ক, শেরেবাংলা সড়ক,২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এলাকা,শহরের সদর রোড সহ অধিকাংশ সড়ক এবং এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এ বৃষ্টির পানিতে অধিকাংশ বাসাবাড়ি, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান  ও পুকুর পানিতে তলিয়ে যায়।

পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ রুটের সব ধরণের নৌ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে এবং মাছ ধরতে যাওয়া সাগরের সব ট্রলারকে পরর্বতী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়াও শনিবার রাত থেকে জেলার দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলায় এবং রবিবার সকাল থেকে বাউফল, কলাপাড়া, দুমকি ও মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা শহরে সকাল থেকে  পর পর কয়েকদফা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। এ বৈরী আবহাওয়ার কারনে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পরে। স্কুল, কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অধিকাংশ দোকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল । যানবাহান চলাচল করেছে খুবই কম।