পটুয়াখালীর ধরান্দিতে শেষ হলো ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান শরীফ মেলা

3

 

মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ঃ পটুয়াখালীর ধরান্দি গ্রামে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও জাক-জমক পূর্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ২শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান শরীফ  মেলা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধরান্দি গ্রামের দেওয়ান শরীফের মাজার সংলগ্ন মাঠে এ গ্রামীন মেলা শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর নাগাদ । দুপুরের পর খান বাড়ি সংলগ্ন মাঠে বসে মেলার ২য় পর্ব চলে রাত পর্যন্ত।  মেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌড় থেকে শুরু করে ছিল পিঠা পুলির নানান আয়োজন। এ সব কারনে  মেলা এখন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে বাৎসরিক উৎসবে পরিনত হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের ধরান্দি গ্রামের ধর্মীয় সাধক দেওয়ান শরীফের নামে মূলত বাংলা বছরের হিসেবে প্রতি বছর বৈশাখের ১৫ তারিখ আয়োজন করা হয় এই  মেলা। মেলায় সব থেকে জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার  দৌড়। আগেকার সময়ে অর্ধশতাধীক ঘোড়া  দৌড় অংশ নিলেও কালের বিবর্তনে তার সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে, কিন্তু সে অনুপাতে জনসমাগম বেরেছে আরো কয়েক গুন। ঘোড়ার  দৌড় দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহন করেন এই  মেলায়। এ বছর জেলার বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে মোট ২০ টি ঘোড়া এ দৌড়ে অংশ গ্রহন করে।শহরের কোলাহল থেকে দূরে গ্রামীন পন্য আর মিষ্টি মিঠাইয়ে সজ্জিত এই  মেলা আগত দর্শনার্থীদের গ্রামীন ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নেয়।  মেলা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাতে তৈরী বাহারী সব পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা। আয়োজকরা বলছেন ,মেলার পরিবেশ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা সব  সময়েই সক্রিয় থাকেন।  মেলা আয়োজকদের মধ্যে মোঃ ফারুক খান বলেন, ‘শত শত বছর ধরে এই মেলা আপনা আপনি ভালে মিলে আসছে। আমরা আমাদের বাপ দাদার কাল থেকেই দেখছি প্রতিবছর ১৫ই বৈশাখে মেলা আয়োজন হচ্ছে। আর এই মেলা আয়োজন করতে কোন ধরনের প্রচার প্রচারনা ও আয়োজক কমিটির দরকার হয় না।’

এলাকার সাধারন মানুষরা জানান, অনেকেই আছেন যারা সারা বছর  গ্রামের আসার সুযোগ পান না। ঈদ অথবা কোরবানীতে না আসতে পারলেও এই মেলায় তারা অংশ গ্রহন করেন। এ ছাড়া মেলা উপলক্ষে প্রতি বাড়িতে মেয়ে-জামাই থেকে শুরু করে নিকট আত্মীয়দের দাওয়াত দেয়াটাও এখন যেন এই গ্রামে রিতি মতো প্রথা হিসেবে রুপ নিয়েছে। এ সব কারনে গ্রামের বাড়ি গুলোতে মেলা উপলক্ষে থাকে উৎসবের আমেজ।প্রতি বছর এই  মেলাকে কেন্দ্র করে দিন দিন বাড়ছে মেলার পরিধী ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা এ কারনে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ও প্রত্যন্ত এই গ্রামের  মেলায় থাকছে বিশেষ নজরদাড়ী। শত বছরের এই  দেওয়ান শরীফের  মেলা এখন শুধু পটুয়াখালীই নয়  পূরো দক্ষিন অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এ বছর মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঘোড় দৌড়ে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. মোঃ তারিকুজ্জামান মনি।  তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে জেলা ও জেলার বাইরের মানুষের সাথে পরিচিত করতে বিগত বছর গুলোর মতো আগামীতেও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।