পটুয়াখালীর ভাংগন কবলিত এলাকার ৫ সহাস্ত্রাধিক ঘরবাড়ি বিলীন

2

 

মজিবুর রহমান,বিশেষ প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে জেলা সদর, দুমকি ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার অন্তত: ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৮শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিগত কয়েক বছরে এ তিন উপজেলায় অন্তত: ৫সহাস্ত্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। বর্তমানে সদর উপজেলার ছোট-বিঘাই, ইটবাড়িয়া, লাউকাঠী, লোহালিয়া, দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া, পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী ও আংগারিয়া, মির্জাগঞ্জ সদর, সুবিদখালী ও কাঠালতলি  ইউনিয়নের অন্তত: ১৫ গ্রাম নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে সদরের পায়রাগঞ্জ, ইটবাড়িয়া, মাদারবুনিয়া,  বিঘাই, লেবুখালীর পুরাতন বাজার, আংগারিয়ার বাহেরচর, মুরাদিয়ার কালেখা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিন মুরাদিয়ার মজুমদারের হাট রাজগন্জ ও চান্দখালী গ্রামের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ওইসব এলাকার মানুষের মধ্যে আতংকের পাশাপাশি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নদী ভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অধিকাংশ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। লেবুখালী পুরাতন বাজার সওজ’র সরকারী রাস্তার ওপর আশ্রয় নেয়া ৩০/৩৫টি পরিবার খোলা আকাশের নীচে অবর্ননীয় দুর্ভোগে কাটাচ্ছে। বাহেরচর এলাকায় ভাংগনের মুখে এখনও গ্রামের মায়ায় পড়ে রয়েছে দেড়শতাধিক ছিন্নমূল পরিবার। উত্তর মুরাদিয়া ও সন্তোষদির পাউবো’র বাস্তায় আশ্রয় নেয়া শতাধিক পরিবার চরম অর্থ ও খাদ্যে সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। মুরাদিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার জানান, অতি সম্প্রতি দু’তিন দফায় লোহালিয়া নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উচ্চতায় পানি বৃদ্ধি, জলোচ্ছাসে ভাংগন তীব্র আকার ধারন করেছে। বৃদ্ধি পাওয়া পানির জোয়ার-ভাটায় স্রোতের তোড়ে ভাঙনে ওই ইউনিয়নের উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, কালেখা, দক্ষিন মুরাদিয়ার কলাগাছিয়া গ্রামের প্রায় দু’শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাঙ্গাশিয়ার রাজগঞ্জ, চান্দখালী, আলগি, লেবুখালী,র পশ্চিম লেবুখালী, আংগারিয়ার বাহেরচর, পশ্চিম আংগারিয়া, মুরাদিয়ার উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, চরগরবদি, কলাগাছিয়াসহ ১৫ গ্রামের পাঁচসহাস্ত্রাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে পায়রাগঞ্জ, ইটবাড়িয়া, মাদারবুনিয়া, মুরাদিয়া, পাঙ্গাশিয়া, আংগারিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়ন জেলার মানচিত্র থেকে অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি ভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। আলগি গ্রামের বশির বিশ্বাস, চান্দখালীর দেলোয়ার খন্দকার ও মান্নান খন্দকার, লেবুখালীর আ: ছত্তার হাং, জাকির হোসেন, রশিদ প্যাদাসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে এখন ওয়াপদা বেড়িবাঁধে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করে জানান, এখন পর্যন্ত কেউ তাদের কোন খোঁজ-খবর নেয়নি। খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বহু কষ্টে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো। শুধু এরাই নয়, এ ভাবে মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছেন ভাঙন কবলিত ওই এলাকার প্রায় সব মানুষই। মুরাদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি ও চরগরবদি গ্রামের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে সেখানকার প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান ফকির জানান, লোহালিয়া নদীর ভাঙনে গত এক সপ্তাহে উত্তর মুরাদিয়া ও সন্তোষদি গ্রামের শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে অসখ্য ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায় ভাঙন রোধ করা না গেলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ওই ইউনিয়নের বহু ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির ফসল নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। এছাড়া একই ইউনিয়নের কালেখা আমির হোসেনের রাস্তার মাথা এলাকায় পাইলিংএর বাইরের এলাকার ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। মজুদারের হাটের অর্ধেকের বেশীই এলাকা ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাংগন রোধকল্পে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীরা।