পর্যটক হয়রানী মামলার অন্যতম আসামী এবার মহিপুর থানা যুবলীগের পদ দখলে মরিয়া!

3

ডেক্স রিপোর্ট ঃ তিন নারীসহ ৫ পর্যটকের ওপর হামলা-মারধর এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় তোলপাড় করা মামলার অন্যতম আসামী মামুন হাওলাদার এবার নবগঠিত মহিপুর থানা যুবলীগের নেতৃত্ব দখলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। বিএনপি আমলে এবং তার আগ থেকেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের  সাথে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিল।  এবার মহিপুর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পদকের পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তিনি। সূত্র জানায়, মহিপুরকে থানা ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে স্ব স্ব রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসিন দল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও নবগঠিত থানায় শুরু হয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া। থানা হিসেবে সরকারী গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় থাকলেও ইতোমধ্যে ক্ষমতাসিন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন সমূহের কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসিন দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে চলছে পদ দখল ও অবস্থান ধরে রাখার অদম্য প্রতিযোগীতা। এসবের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিতর্কিত মামুন হাওলাদার। সূত্র মতে হাইব্রিড নেতা মামুন হাওলাদারের অদৃশ্য শক্তির দাপটে স্থানীয় ত্যাগি নেতাকর্মীরা চরম কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। মহিপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম গাজী বলেন, ‘মামুন হাওলাদারের বংশের সকলেই বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত। মামুনের বাবা প্রয়াত হাজী আ: রব হাওলাদার ছিলেন মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১নং সদস্য, বড় ভাই ইউসুফ হাওলাদার বাদল মহিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি, মেঝো ভাই খোকন হাওলাদার মহিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি, চাচা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রয়েছেন। এসবের মধ্যে আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর সুবিধা নিতে মামুন একাই আ’লীগে যোগদান করেন। কিন্তু দলের মিটিং মিছিলে তাকে কখনো দেখা যায়নি।’  মোসলেম গাজীর আরও বলেন, ‘বর্তমানে আ’লীগ ক্ষমতায়, এখন তিনি টপে আছে আবার বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও তখনও তিনি টপে থাকবেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আ’লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা ৩ নারী ও ২পুরুষ পর্যটককে মারধর করে টাকা, স্বর্নালংকার ছিনতাইসহ শ্লীলতাহানীর মত ন্যক্কারজনক  ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানায় ১২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয় (মামলা নং- ২৪/১৪)। ওই মামলায় মামুন ৩নং আসামী। এ ছাড়া কলাপাড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি মিজানুর রহমান বুলেটকে অশালীন আচরণসহ দেখে নেবার হুমকী দিলে বুলেট কলাপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করে (ডায়রী নং- ৭২৪/১৫)। এমনকি বেপরোয়া মামুন মহিপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধরণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামকে হত্যার হুমকী দিলে কলাপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে (ডায়রী নং-১০৩৩/১৫)।

নানান সব অভিযোগ ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখলে মরিয়া মামামুন হাওলাদারকে তার মতামত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মুঠো ফোনে বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই আওয়ামী লীগের রজনীতি করি। এলাকায় একটি স্বার্থান্বেষীী মহল আমার সাফল্য দেখে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। দল যখন করি দলীয় পদ চাইতেই পারি। তবে আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা এলাকায় সাধারন লোকজনের কাছে খোঁজ নিলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। সাধারণ লোকদের কাছে খোজঁ নিয়ে জানা গেছে মামুন হাওলাদ্রা ছাড়া সকলেই বি এনপি  সক্রিয় কর্মী। ইতোপূর্বে তার নিদের্শে ছাত্র দলের বখাটে কর্মী চাচাত ভাই রাজিব ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি হালিম গাজিকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে।এদিকে মামুন হাওলাদার ছাড়াও হাইব্রিড নেতার একটি বহর ভর করেছে মহিপুরের ক্ষমতাসিন দলে। ওই সকল কথিত নেতারা আ’লীগ ও এর অংগসংগঠনের গুরুত্বপূর্ন পদ দখলের সুযোগ পেলে একদিকে দলীয় ইমেজ হুমকির মুখে পড়বে এবং অন্যদিকে দলের ত্যাগি নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে সরে দাঁড়াবে। এমন মতামত রয়েছে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের।