পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় প্রথম পৌর নির্বাচন আ’লীগের হাফ ডজন: বিএনপি ও জাপার একক প্রার্থী

1

pic-6গোফরান পলাশ, কলাপাড়া : পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে পৌর এলাকা। মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা ইতোমধ্যে দলীয় সমর্থন পেতে জেলা ও উপজেলার দলীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহনেচ্ছুক প্রার্থীরা ঈদ ও শারদীয় দূর্গা পূজার প্রাক্কালে রঙীন ব্যানার, পোস্টার দিয়ে এবং বর্তমানে সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন উঠান বৈঠকে। কেউ কেউ আবার দান, অনুদান, চা-চক্রে বে-হিসেবী খরচ করে তার আর্থিক সংগতির কথা প্রকাশ করছেন। নতুন এ পৌর সভার ৫ বছরের বেশী সময় অতিক্রান্ত হবার পর চলতি বছরের ডিসেম্বরে দলীয় সমর্থনে নির্বাচন নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার ভোটারদের মাঝে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। আওয়ামীলীগ সমর্থিত হাফ ডজন প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে দলের নেতাদের সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বেশী থাকায় দলীয় প্রার্থী নিয়ে এ মুহুর্তে মুখ খুলতে চাচ্ছে না আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। এদিকে একমাত্র সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতার বাহিরে থাকা দল বিএনপি। তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনের কৌশল হিসেবে ভিতরে ভিতরে নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমনটা জানা গেছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার উন্নয়নে পৌর নির্বাচন গুরুত্বপূর্ন বিষয় বলে হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি, পর্যটন ব্যবসায়ী সংগঠন, টুরিজ্যম ব্যবসায়ী ইনভেষ্টর ফোরামসহ সকল পোশাজীবিদের কাছে এখন আলোচ্য বিষয় কোন প্রার্থী পর্যটন বান্ধব এবং উন্নয়ন করতে পারবে। এ নিয়ে সাধারণ ভোটার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনার যেন শেষ নেই। সাবেক লতাচাপলী ইউনিয়নটি বিএনপির ভোটের দূর্গ নামে পরিচিত থাকলেও দ্বি-খন্ডিত হয়ে নতুন পৌরসভা গঠনে এবং দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান না থাকায় ভোটের হিসেব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে বলে দাবী সাধারন ভোটারদের।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনে আর কোন বাঁধা নেই। সারা দেশের সাথে একযোগে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা ও ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচন করার জন্য সীমানা নির্ধারনসহ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে। নতুন ভোটারদের হাল নাগাদ ভোটার তালিকায় ও নামভূক্তিকরণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

 

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের রয়েছে ৫জন প্রার্থী। এরমধ্যে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃ বারেক মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মনির আহম্মেদ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ বারী আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অনন্ত মুখার্জী, পৌর যুবলীগের সভাপতি সাগর মোল্লা। এছাড়াও কুয়াকাটা হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ, বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামীলীগে যোগ দেয়া সাইদুর রহমান আবু সাইদ মিয়া, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) কুয়াকাটা পৌর শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন হাওলাদার এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির আহবায়ক আব্দুল আজিজ মুসুল্লী। এছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মাওলানা মাইনুল ইসলাম মান্নান প্রচার প্রচরনায় রয়েছেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামীলীগ ও বিএপি’র দলীয় কোন্দল দীর্ঘ দিনের। দল দু’টির মধ্যে দলীয় কোন্দল কোন ক্রমেই বন্ধ হচ্ছে না। অর্ন্তদ্বন্দ্ব দল দু’টির নিত্যদিনের সঙ্গি। চির প্রতিদ্বন্দ্বি ওই দুই দলের মধ্যে যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে তারাই সব ধরণের কার্যক্রমে জড়িত থাকে। জামায়াত-বিএনপির শাসন আমলে বিরোধী দল আওয়ামীলীগ কোন প্রকার দলীয় কার্যক্রম চালাতে পারেনি, এমনকি খুন হামলার অসামী ছিল নেতাকর্মীরা। তেমনিভাবে আওয়ামীলীগের শাসন আমলে বিএনপি’র তৃনমূল পর্যায় কোন প্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচি, হরতাল, অবরোধসহ দলীয় কার্যক্রম চালাতে পারেনি বিএনপি। অসংখ্যবার পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলা, দলীয় কোন্দলে এবং একাধিক মামলায় আত্মগোপনে রয়েছে নেতাকর্মীরা। কলাপাড়া উপজেলার বিএনপি’র সভাপতি কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে গিয়ে হামলা ও একাধিক মামলা শিকার হয়েছে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোয়ন ও সমর্থন পাওয়া মেয়র প্রার্থীর সাথে বিএনপি’র একক প্রার্থী এবং জাপার প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা হবে এমনটাই দাবী করেছে স্থানীয়রা। অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপি’র একক প্রার্থী এবং জাপার প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে।

এদিকে আওয়ামীলীগ পরিবারের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বারেক মোল্লা, আলহাজ্ব মনির আহম্মেদ ভূঁইয়াসহ প্রত্যেকের বক্তব্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আপাতত তারা কিছুই চিন্তা করছে না। তবে দল যদি প্রভাবিত হয়ে যোগ্য নেতৃত্বের মূল্যায়ন না করে তবে তাদের জনমত যাচাইয়ের জন্য সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি’র একক প্রার্থী আব্দুল আজিজ মুসুল্লী বলেন, তৃনমূল পর্যায়ে বিএনপির ভোটের দূর্গ রয়েছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হবার আশংকা খুবই কম। জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের মত প্রহসনের নির্বাচন হলে বিএনপি অংশ নিবে কিনা সেটা সময়ের বিষয়। আমাদের দল যথা সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে। আমি দলের সিদ্ধান্তে একমত।

 

জাতীয় পার্টি নেতা মেয়র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগনের সুখ দুঃখের সাথে থেকে জনগনের চাওয়া পাওয়ার গুরুত্ব দিতে এবং পরিকল্পিত পর্যটক বান্ধব কুয়াকাটা গড়তে এ নির্বাচনে অংশ নিবেন তিনি।

 

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহ-সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামীলীগের দমন পীড়ন ও হামলা মামলায় উপজেলার অসংখ্য নেতাকর্মীরা জেল হাজতসহ আত্মগোপনে রয়েছে। এ মুহুর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না। দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

পটুয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান বলেন, কলাপাড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে আসন্ন পৌর নির্বাচনে অংশ নেবে।

 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ৩৪নং লতাচপলী মৌজার ১১৪০ দশমিক ৫৫ একর জায়গা নিয়ে নতুন এ পৌরসভা গঠন করেছে বর্তমান সরকার। ওই বছরই ৩১ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসক এবং আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে ১৯ সদস্য’র পরিচালনা পর্যদ নিয়ে কোন প্রকার উন্নয়ন ছাড়াই অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কুয়াকাটা পৌরসভার কার্যক্রম। এছাড়া একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দুর্নীতির গুঞ্জন রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

#