পলিটেকনিকে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ॥ ছাত্র-শিক্ষক সহ আহত -১০

0

ডেক্স রিপোর্টঃ আধিপাত্য বি¯তারকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে গতকাল রবিবার সকালে এক সংঘর্ষে ছাত্র – শিক্ষক সহ  আহত হয়েছে ১০ জন । এদের মধ্যে আহত তিন ছাত্র বেল্লাল হোসেন(২০) হালিম মৃধা (১৮) ও মাঃ জাবেদ (১৮)কে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে ।

ছাত্র শিক্ষক ও আহতদের সুত্রে জানা গেছে গতকাল রবিবার সকাল ১০ টায় কমন রুমে অঘোষিত ভাবে এতদিন কমনরুমের অংশটি ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা তাদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহার করত । কিন্তু সকাল থেকে হলরুমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছিল ।এতে সহায়তা করছিল ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস গ্রুপ বলে পরিচিত বেল্লাল – সজিব গ্রুপ । ছাত্রলীগ পলিটেকনিক কমনরুমে প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার সকালে পলিটেকনিক ছাত্রলীগ শাখার  সেক্রেটারী আবির হোসেন নিপুর ও জুবায়ের এর  নেতৃত্বে একটি গ্রুপ  হলরুমে আড্ডা দিতে এসে এমন অবস্থা দেখে ক্ষুব্দ হয়ে এ কার্যক্রম বন্ধ করতে বলে এবং হলরুম খালী করার জন্য নানা রুপ চাপ সৃষ্টি করতে থাকে । তাৎক্ষনিক ভাবে এতে বাধ সাধে বেল্লাল ও তার সহযোগীরা । এমতাবস্থায় দুই গ্রুপের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষে রুপ নেয় । এমতাবস্থায় টিকা প্রদান কার্যক্রম পন্ড হয়ে যায় ।

এক পর্যায়ে নিপু গ্রুপ সংঘটিত হয়ে বেল্লাল গ্রুপকে  বেদম মারধোর করলে ঘটনাস্থলে  বেল্লাল  , হালিম ও জাবেদ আহত হয়ে পরে থাকে । এদিকে দুই গ্রপের সংঘর্ষ থামাতে কয়েক জন  শিক্ষক এগিয়ে এলে নিপু জোবায়ের গ্রুপ তাদের অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করে এবং তাদের উপর  চড়াও হয় বলে জানান ইলোকট্রনিক্স শিক্ষক সঞ্জয় কুমার ।এ সময় ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের হাতে লাঞ্চিত হন শিক্ষক পলাশ কুমার।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ কামরুজ্জামান বলেন, তিনি ও তার শিক্ষকরা ছাত্রলীগ  নেতা কর্মীদের হাতে দীর্ঘ দিন জিম্মি হয়ে আছে । তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ড থামাতে জেলার শীর্ষ নেতা থেকে ছাত্র লীগ জেলা নেতাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বারবার । কিন্তু এ ক্ষেত্রে আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি । তাদের আভ্যন্তরীন সংর্ঘষ থামাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষককে ও লাঞ্চিত হতে হয়েছে । তিনি এ ঘটনা পুলিশকে অবহিত করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ক্যাম্পাসে অবস্থান করায় পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত থাকলেও সাধারন ছাত্র ও শিক্ষকরা আতঙ্কের মধ্যে আছে ।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, অধ্যক্ষের ফোন পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে । ক্যাম্পাস এখন শান্ত ।