পাওয়ার হাউজ কলোনি ঝুকিপূর্ন ভবনে বসবাস !

4

 

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনী (ওজোপাডিকো) সাবেক পিডিবির কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলো এখন রিতি মতো মৃত্যু কুপে পরিনত হয়েছে। দীর্ঘ দিনেও এসব ভবন সংস্কার না করায় ছাদের পলেস্টার সহ রড খুলে খুলে পরছে, ফলে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। আর ভবন সংস্কারে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকর উদ্দোগ।

দেখা যায়, পটুয়াখালী জেলা শহরের মানুষকে আলোকিত রাখতে দিন রাত কাজ করছেন যে সব শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তারাই থাকছেন পরিবার পরিজন সহ সার্বক্ষনিক ঝুঁকির মধ্যে। পটুয়াখালী শহরে পাওয়ার হাউজ কলোনি হিসেবে পরিচিত এই কম্পাউন্ডের ভবন গুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে ও পরবর্তী সময়ে নির্মিত হয়েছিলো। আর বিগত কয়েক বছরে এসব ভবন গুলো ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পরেছে। ভবনের দরজা জানালা গুলো খুলে খুলে পরেছে, তাইতো নিজেদের খরচে ঢেউটিন,বাশের চাটাই কিংবা পলিথিন দিয়ে কোন রকম থাকার উপযোগী করে নেয়ার চেস্টা করছেন এসব ভবনে থাকা বাসিন্ধারা। এর পরও বেতনের ২০ শতাংশ ভাড়া দিয়ে জীবীকার প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই অর্ধশতাধীক পরিবারকে এখানেই থাকছে হচ্ছে। ছাদের পলেস্টার পরে কলোনিতে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। আর ভুক্তভোগীরাও বলছেন তাদেরকে ঝুঁকিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ঠদের নেই কোন কার্যকর উদ্দোগ।

কলোনির বাসিন্ধা শামসূল আলম চৌধুরী বলেন, ‘মানুষকে আলোকিত রাখতে আমরা দিন রাত কাজ করছি আর আমরা পরিবার পরিজনসহ সার্বক্ষনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্শন করছি।

কলনীতে বসবাসকারী ষার্ট উর্দ্ধো সোবাহান বলেন, ‘নাতিদের সাথে গল্প করছি, ঠিক সেই সময়ে ছাদের বড় একটি পলেস্টার খসে পরে, আমরা যদি ঐ স্থান থেকে না সরতাম তবে আজ আমাদের পরিবারে কান্নার রোল পরতো।’

কথা হয় গৃহিনী তাসলিমা বেগমের সাথে তিনি বলেন, ‘বাসার ছাদের পলেস্টার খসে খাবারের উপরে পরে অনেক সময়ে খাবার নষ্ট হয়। কোন মেহমান আসলে তাদের সামনে নাস্তা দেই সেই নাস্তাও নষ্ট হয়ে যায় আর মেহমানের সামনে লজ্জা পেতে হয়। সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের থাকার ভবনটি সংস্কার করে দিন।’

আরএক গৃহিনী শামসুন নাহার জানান, ছাদের সাথে পলিথিন দিয়ে রাখা হয়েছে। ভূমিকম্প হলে ভবন কাপে মনে হয় এখনই ভেঙ্গে পরবে।

এদিকে এ সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তেমন কোন মাথা ব্যাথা নেই বললেই চলে। তাইতো তাদের মুখে দীর্ঘ দিনের সেই পুরাতন আশার বানী।

পটুয়াখালী ওজোপাডিকো ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মু.আ: সালেক খান বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরাতন ভবন সংস্কার করা হবে।’

দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরাতন এসব ভবন সংস্কার অথবা নতুন ভবন তৈরী না করলে ভূমিকম্প সহ প্রাকৃতিক দূর্যোগে ভবনে থাকা বাসিন্ধারা বড়ো ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পরতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।