পাচিং পদ্ধতি ধানের ক্ষতিকর পোকা খাচ্ছে পাখি

4

জাহাঙ্গীর হোসেন, ক্ষতিকর পোকা দমনে এক সময় জমিতে ব্যপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হতো। এখন সে প্রবণতা কমেছে। ধানক্ষেতে পোকাখেকো পাখি বসার ব্যবস্থা করে পোকা দমন করা হচ্ছে। পটুয়াখালী সকল উপজেলার কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিনা খরচে পোকা-মাকড় দমনের পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতি। কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষি বিভাগের নতুন উদ্ভাবিত এ পদ্ধতির নাম পাচিং পদ্ধতি। পাচিং দুই ধরনের। একটি ডেথ পাচিং জমিতে শুকনো ডাল অথবা কঞ্চি পুঁতে দেয়া হয়। আর একটি জীবন্ত পাচিং জমিতে ধনচে গাছ লাগানো। সবুজ ধান ক্ষেত দেখলেই এখন চোখে পড়বে বাঁশের কঞ্চি,শুকনো ডালপালা অথবা সবুজ ধনচে গাছ। ধান ক্ষেতের মধ্যে কয়েক ফুট পরপর বাঁশের কঞ্চি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও ক্ষেতের মাঝে সবুজ ধনচে গাছ লাগানো হয়েছে। এ গুলোতে ফিঙে পাখি বসছে। খেয়ে ফেলছে ধানের ক্ষতিকর পোকা-মাকড়। বিশেষ করে দুপুরের পর সূর্য্যের তাপ কমে গেলে ধানের জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকাখেকো পাখি বসছে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সবুজ ধানক্ষেত। পাখিরা ক্ষেতের শুকনো ডালে বসে ধান গাছের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় ধরে ধরে খেয়ে ফেলছে। ধনচে গাছ জমিতে সার তৈরি করছে। কৃষিবিদদের মতে, ধান গাছে থোর আসার পর লেদাপোকা,নলি মাছি,মাজরা পোকাসহ কয়েকটি পোকা আক্রমন করে। পোকার আক্রমনে প্রতি বছর ৭থেকে ১০ ভাগ ধানের উৎপাদন কম হতো। এ ধরনের ক্ষতিকর পোকা দমনে এক সময় কীটনাশক ব্যবহার করা হতো। এতে বিঘা প্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হতো। কৃষকরা এখন কীটনাশকের পরিবর্তে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পোকা দমন করছেন। আমন ধান ক্ষেতে প্রায় ৯০ ভাগ জমিতে এবার পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। পাচিং পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আবার ধনচে বীচও দেয়া হয়েছে। কৃষক কাশেম হাওলাদার,মজিবর সিকদার জানায়,তারা এক সময় ধানের পোকা ধমনে কীটনাশক ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন আর সেটা করেন না। আমাদের দেখাদেখি এখন অনেক কৃষকই এখন এ পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর উপ-পরিচালক, মো. নজরুল ইসলাম মাতুব্বর জানায় ,পাচিং পদ্ধতি সরকারিভাবে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এতে কোন খরচ নেই। ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমনে এটা জৈবিক পদ্ধতি।ধানের পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারে ফলে কৃষকরা অনেক লাভবান হচ্ছে। পাচিং পদ্ধতি আগে কৃষক বুঝতে চাইতো না। এখন অনেক সচেতন ।তারা ধানের জমিতে বাঁশের কঞ্চি আড়াআড়িভাবে পুঁতে দিয়েছেন। কেউ ধনচে গাছ লাগিয়েছেন। এতে কোন খরচ নেই সব কৃষকই ভালো উপকার পাচ্ছেন।