পানিতে ভাসছে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১৩ হাজার মানুষ

0
Exif_JPEG_420

অতুল পাল, বিশেষ বাউফল: পানিতে ভাসছে বাউফলের প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১৩ হাজার মানুষ। পানির তোরে ভেসে গেছে অনেক পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, গৃহপালিত পশুপাখিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদি। ৮ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, গভীর নলকুপ, পুকুর ও মাছের ঘের। খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে চরবাসি। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রশাসন কিংবা কোন এনজিওদের পক্ষ থেকে এখনো কোন ত্রাণ কিংবা কোন ধরণের সহায়তার হাত বাড়ানো হয়নি। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে চরের জেলে ও কৃষি নির্ভর পরিবারের সদস্যসহ দিনমজুর মানুষগুলো।

শনিবার সরজমিনে দেখে গেছে, গত দুই দিন ধরে তেতুঁলিয়া নদীর অস্বাভিক জোয়ারের পানি চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত করেছে। পানির তোরে ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার বেরিবাধের মধ্যে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভেঙ্গে গেছে। পাকা সড়ক ধ্বসে গেছে প্রায় ১৩ কিলোমিটার। ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, গৃহপালিত পশুপাখি এবং ডুবে গেছে মাছের ঘের ও পুকুর। আমনের বীজতলা ডুবে গেছে ৮ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা আসতে না পারায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে। রান্না করার মত কোন স্থানও নেই। ফলে শুকনো খাবারের উপড় নির্ভর করতে হচ্ছে চরবাসিদের। গভীর নলকুপগুলো ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যার পানিই পান করা হচ্ছে। এরফলে ইতিমধ্যেই শিশু ও বৃদ্ধদের পেটের পিড়া দেখা দিয়েছে। ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। এলাকাবাসিরা জানান, উত্তরের ঢলের পানি আমাদের অঞ্চলে এমনভাবে তেরে আসতে আগো কখনো দেখিনি। এযেন নিরব পানি বন্যা। মানুষ তাদের সম্পদ রক্ষার কোন সুযোগই পেল না। অভিজ্ঞজনেরা জানান, নদীগুলোর নাব্যতা হৃাস পাওয়ায় নদীতে পানির ধারণ ক্ষমতা কমে হেছে। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু অস্বাভাবিক জোয়ার হলেই নি¤œসহ মধ্য অঞ্চল তলিয়ে যায়। এবিষয়ে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক আলকাচ মোল্লা বলেন, অতি দ্রুত চন্দ্রদ্বীপ ইউপির মানুষদের জন্য সহায়তা দরকার। তা না হলে এখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন,  ইতিমধ্যেই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি আশা করছি দু’একদিনের মধ্যেই সহায়তা করতে পারবো।