পান চাষে ভাগ্য বদলেছে  পুতুল রাণীর

1

জাহাঙ্গীর হোসেন ঃ ক্ষুধা, দারিদ্র আর অভাবের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন পুতুল রাণী। শ্রম ছাড়া জীবন স্বার্থক হয় না। এমন একটি বিজয়ীর ঘটনা ঘটিয়ে দেখালেন পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইটবাড়ীয়া গ্রামে। তিনি একজন সফল নারী। যা অন্য নারীর চেয়ে ব্যতিক্রম। এলাকায় তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সুনাম কুড়িয়েছেন।

সূত্র জানায়,পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটারে পথ দূরে । সামুদাবাদের রোডের পাশেই তার গ্রামের বাড়ি ও কর্মক্ষেত।এক সময়ে পুতুল রাণীর সংসারে অভাব লেগেই থাকতো। অন্যের বাড়ীতে কাজ করে কোন রকমে চলত তাদের ছয় সদস্যের সংসার, এ যেন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। যে দিন কাজ জুটত সেদিন সংসারে আহার জুটত।  আর যেদিন কাজ জুটত না সেদিন থাকতে হতো অনাহারে অর্ধাহারে কাটত তাদের সংসার।সবসময় হতাশায় থাকতো তার পরিবার। কি করবে পুতুলের স্বামী  পিযুষ ? কৃষি কাজ করতে গেলেও  দরকার পুঁজির । কিন্তু পুঁজি কোথায় ? এলাকার ধনী লোকদের কাছে টাকার  জন্যে গেলে  তারা  মহাজনী  কায়দায়  লাভ নিয়ে টাকা দিতে চায়, কিন্তু  এভাবে  টাকা দিয়ে  কৃষি  কাজে  লাভের চাইতে  ক্ষতি বেশী।কি করবে কোথায় পাবে টাকা দিশেহারা স্বামী স্ত্রী । স্বামী ও স্ত্রী চিন্তা করলো মুসলিম এইড এর মাধ্যমে সমিতিতে প্রাথমিক ভাবে সদস্য হওয়া প্রয়োজন। তা হলে ভর্তি হতে হবে বলে স্বামী স্ত্রী পরামর্শ করে মন স্থির করল।  ২০১০ সালের ১৪জানুয়ারী তার স্ত্রী পুতুল রাণী গলাচিপা শাখার ইটবাড়ীয়া সমিতিতে ভর্তি হন। ভর্তি  হয়ে প্রথমে ১০,০০০ (দশ হাজার ) টাকা নিয়ে শুরু  করেন পান চাষ। স্বামী স্ত্রী  দুইজনে মিলে পানের বরজে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এভাবে পরিশ্রম করতে করতে একদিন শুরু হল তাদের পান বিক্রি আর সংসারে আসতে লাগলো সুখের দিন । পর্যায়ক্রমে পুতুল রানী ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা ঋণ নিয়েছেন।  যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো মানের ও পানের বাম্পার ফলন হওয়ায়  বিক্রিতে ভালো টাকা আসছে। ঋণের টাকা কিস্তি দিয়ে এবং সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে না।  পরেও কিছ’ু টাকা  বেঁচে যায় । বেঁচে যাওয়া টাকা ক্রমেই বাড়তে থাকে । পুতুল রাণীর চার ছেলে- মেয়ে এখন স্কুলে যায়। এখন সে ৪০ (চল্লিশ) শতাংশ জমিতে পানের চাষ করছেন। তার স্বামী পিযুষ চন্দ্র বলেন, স্ত্রী মুসলিম এইড এর সদস্য হয়ে সংসার জীবন ভালই চলছে। পুতুল রাণী নির্দিধায় বললেন মুসলিম এইড এর সহযোগিতা না পেলে হয়ত সারাজীবনই আমাদের সংসারে অভাব লেগেই থাকত তাই এর উজ্জ্বল ভবিষ্যতে  কামনা করি । পুতুল রাণী আরও বলেন  ভবিষ্যতে বেশী  ঋণ পেলে বৃহৎ আকারের পান বরজ স্থাপন করে এলাকার কিছু দরিদ্র লোকের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম। এ ব্যাপারে মুসলিম এইডের ম্যানেজার নাজির প্রামানিক জানান, মুসলিম এইড আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত একটি সংস্থা।