পায়রা বন্দরে যাওয়ার প্রধান সড়কটির বেহাল দশা

3

সোলায়মান পিন্টু,কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বালিয়াতী খেয়াঘাট পয়েন্ট থেকে পায়রা সমুদ্র বন্দর গুরুত্বপূর্ন সাড়ে ৩ কি. মি. দীর্ঘ রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি জরুরী ভিত্তিতে নির্মান বা ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি স্থানীয় জন সাধারনের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামে পায়রা বন্দর গড়ে তোলার জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তখনই তড়িগড়ি করে ৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বালিয়াতলী খেয়াঘাট থেকে পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করে এ রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে আজ পর্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পায়রা বন্দর গড়ে তোলার কাজ। রাস্তাটি দিয়ে পায়রা বন্দর পরিদর্শনে আসা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়ী ও সাধারন মানুষ নির্বিঘেœ চলাচল করত। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ইট বিছানো মাটির এ রাস্তাটি দিয়ে হালকা ও ভারী যান চলাচলের ফলে রাস্তাটি এখন একবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও সাধারন মানুষের চলাচল ব্যহত হচ্ছে। অতি বর্ষনের ফলে সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি আটকে আছে । অনেক স্থান থেকে ইট উঠে গিয়ে কর্দমাক্ত রাস্তায় পরিনত হয়েছে। আন্ধারমানিক নদীর জোয়ারের পানির চাপে সড়কের মধ্যবর্তী স্লুইজ গেটটি যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে। স্লুইজ গেট ধ্বসে পড়লে রাস্তাটি দেবে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলসহ পায়রা বন্দরের সাথে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সড়কের পাশে অবস্থিত জিয়া কলোনীর বাসিন্দা মো.সরোয়ার জানায়, পায়রা বন্দরে যাওয়ার জন্য প্রায় সবাই এই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকে। পন্য বোঝাই ভারী ও হালকা যান চলাচলের ফলে এই সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে।

টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু বলেন, সড়কটি আসলেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এই রাস্তাটির কথা জানানো হয়েছে। আমি জরুরী ভিত্তিতে এ সড়ক নির্মান করার দাবি জানাই।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুল মন্নান বলেন, পায়রা বন্দর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে তিন বছর আগে এ সড়কটি তৈরী করা হয়েছিল। আমরা সড়কটি দেখে প্রস্তাবনা তৈরি করে সদর দপ্তরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছি। তিনি আরও বলেন, সড়কটির মধ্যবর্তী স্লুইজ গেটটি নতুন করে করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে।