পায়রা বন্দর উদ্ভোধনের মধ্যদিয়ে নবদিগন্তের দ্বার উম্মোচিত হবে……………………প্রধানমন্ত্রী

3

 

ডেক্স রিপোর্টঃ আমরা চেষ্টা করছি এই দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে। এই দক্ষিণাঞ্চল সব সময় অবহেলিত ছিল। এদিকে কেউ কখনও ফিরে তাকায়নি। আমি বহুবার এই অঞ্চলে এসেছি। এখানে অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে বলেই আমরা এখানে এই বন্দর প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর পায়রা হচ্ছে শান্তির প্রতিক। তাই এই বন্দরের নাম দিয়েছি পায়রা সমুদ্র বন্দর। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে এমনটাই বলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার দুপুর ১২টা ১৮টা মিনিটে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের মাদার ভ্যাসেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য খালাস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বন্দরের নামফলক উন্মোচন করেন।

উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিন বছর আগে এই অঞ্চলের জমির দাম কম ছিল। তাই জমির মালিকরা দাম একটু কম পেয়েছে। এখন জমি অধিগ্রহনে জমির মালিকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায় তা আমরা নিশ্চিত করব। পায়রা বন্দর গড়ে উঠলে এখানে অনেক কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হবে। তখন এই অঞ্চলের মানুষের আর দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। আমরা পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন করব। আমরা নদীগুলোকে ড্রেজিং করে ব্রহ্মপুত্র নদী পর্যন্ত নিয়ে যাব। এদিকে মালয়েশিয়া থেকে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চুনা পাথর নিয়ে এফবি বীজ জাহাজ শনিবার সকালে বহির্নোঙ্গরে অবস্থান নিয়েছে বলে মদিনা গ্রুপে ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাসান জানান। রবিবার সকালে এ চুনা পাথর খালাস করা হেেব বলে তিনি জানান। এছাড়াও মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে একাধিক পন্য বোঝাই জাহাজ পায়রা সমুদ্র বন্দরের দিকে আসছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।পায়রা বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, গত ৩১ জুলাই ৫৩ হাজার টন পাথর নিয়ে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের বহির্নোঙরে আসা প্রথম জাহাজ ফরচুন বার্ড থেকে পন্য খালাসের জন্য এমভি পেয়ারা-৬, এমভি ফেকু মিয়া, এমভি সৈনিক-৫, এমভি নিউটেক-২, এমভি নিউটেক-৬, এমভি মেরিন-৫, এমভি মেরিন-৮, এমভি টাইগার অব ইস্ট বেঙ্গল-৭, কেএসএল প্রাইড এবং কেএসএল গ্লাডিয়েটর নামের  লাইটার জাহাজ ছেড়ে যায়।উদ্বোধনের সময় পায়রা বন্দর প্রান্তে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, পটুয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মো. মাহবুবুর রহমান, মাদারীপুর-১ আসনের সাংসদ নুরে আলম চৌধুরী, নারী সাংসদ বেগম লুৎফুন্নেসা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, স্বাস্থ্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মদিনা গ্রুপের মো. সোলায়মান সেলিম, কার্গো ও ভ্যাসেল এ্যাসেসিয়েমনের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান প্রমূখ।

এদিকে পায়রা বন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধনকে কেন্দ্র করে উৎসব মূখর পরিবেশে বিরাজ করছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক তোরণ ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন পাস হয়। এ আইনের আওতায় রাবনাবাদ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার মধ্যবর্তী উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের  কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।