পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক কুয়াকাটায় মাদকের বাণিজ্য রমরমা, মূলহোতা ধরাছোয়ার বাহিরে

3

কুয়াকাটা প্রতিনিধি ঃ সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটারর উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্পটে চলছে রমরমা মাদক বাণিজ্য। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় গাঁজা, ইয়াবা ও চোলাই মদ । পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ধরাছোয়ার বাহিরে থাকছে মূল হোতারা । পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মাসোয়ারা নিয়ে অবাধে ব্যাবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে এমন কথা শোনা যাচ্ছে সর্বত্রই।

সরেজমিনে জানাযায়, কুয়াকাটায় পর্যটক সেবার মানউন্নয়নে তথা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সমুদ্র সৈকতের মাছধরা জেলেদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে নৌ-পুলিশ এ ছাড়া সাধারণ মানুষ ও মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রয়েছে মহিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এতগুলো টিম থাকাস্বত্ত্বেও একটি কু-চক্রিমহল নিজেদের আখের গোছাতে কতিপয় অসাধু প্রশাসনের সদস্যদের যোগসাজশে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে বীরদর্পে। ফলে স্কুল, কলেজ ও উঠতিবয়সী যুবসমাজ দিন দিন বিপথগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। শঙ্কিত ও চিন্তিত হয়ে পরেছেন অভিভাকরা। ইতোমধ্যে মাদক স¤্রাট আঃ জলিলকে বিদেশীমদসহ বিভিন্ন সময় পুলিশ একাধীকবার গ্রেপ্তার করলেও অজানা হাতের ছোঁয়ায় কিছুদিন জেলহাজতে থাকার পর বেড়িয়ে আসে। পুনরায় সে ওই ব্যবসা চালাচ্ছে অবিরাম গতিতে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লতাচাপলী ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি আঃ বারেক মোল্লাকে আহ্বায়ক ও সাংবাদিক নাসির উদ্দিন বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে একটি গঠন করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের রমরমা ব্যবসা।

অপরদিকে কিছুদিন পূর্বে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল স্কাই প্যালেস থেকে ১শ ৫০ পিচ ইয়াবাসহ রনি ও আশিক নামের দু’জনকে আটক করা হয়েছে। সেখানে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের এ এস আই মাসুমের অর্থ-বানিজ্যের কারণে মূলহোতাকে ধরা সম্ভব হয়নী এমন অভিযোগ অনেকের। এমনকী তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মী সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনে গেলে ওই কর্মকর্তার সাথে বাক-বিতন্ডার সৃস্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে মহিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের টহলরত পুলিশ অনেক সময় ইয়াবা সন্দেহে অনেককে ধরে অজ্ঞাত কারণে তাদেরকে ছেড়েদেন অথচ ওই সকল লোকেরাই এসবের সাথে জড়িত রয়েছে। পুলিশের এমন ভূমিকায় হতবাক উপকূলবাসী।

মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে লতাচাপলী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ফকির, লতাচাপলী আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক আনছার উদ্দিন মোল্লাসহ এলাকার শতাধীক লোক স্বাক্ষরিত একটি আবেদন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেন মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃস্টি পাওয়ার জন্য।

এ বিষয় ইউনিয়ন আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক আনছার উদ্দিন মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিভিন্ন সময় মাদকসহ অনেককে পুলিশ আটক করলেও আবার তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কেন ছেড়ে দেয়া হয় এটাই তাদের প্রশ্ন ? তবে মাদক বাণিজ্য বন্ধ করতে না পারলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে লতাচাপলী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ফকির বলেন, মাদকের ভয়াবহতায় এলাকার যুব সমাজ প্রায় ধ্বংসের পথে, অবিলম্বে এটা বন্ধ করা দরকার।

মহিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশ রয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রন করার। তাই এ ব্যাপারে তারা সতর্ক রয়েছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) জানান, মাদকসহ যাদেরকে ধরা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এর সাথে অন্য যারা জড়িত তাদের নাম চার্শিটে অন্তর্ভূক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন’র সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার মীর ফশিউর রহমান বলেন, মাদক সম্পর্কে আমাদের কাছে তেমন কোন তথ্য প্রমান নেই, আমরা মূলত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিচ্ছি। তবে যে কোন অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। # # #