প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও  ঠিকাদেরর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ গলাচিপায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম

7

 

নাসির উদ্দিন, গলাচিপা ঃ গলাচিপা উপজেলা দক্ষিন বাউরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মান কাজ শুরু থেকে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ঠিকাদারদের  সাথে উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার ও উপসহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান অনিয়মের সাথে জড়িয়ে গতকাল রবিবার জেলা প্রশাসক সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয় মো:দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের  ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিন বাউরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এল,জি,ইডির অর্থয়ানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা ব্যায়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতলা ভবন নির্মান কাজ চলছে। পিলার বসানো শ্রমিক নজরুল ইসলাম(৪৫) জানান, কয়টি পিলার ধরা হয়েছে তা জানিনা। তবে ১৪৪টি পিলার তৈরী করে পিলারের বসানোর কাজ চলছে। তবে সব পিলার তৈরী করে নির্মান কাজ শুরু করার কথা। এছাড়াও একটি সূত্র জানিয়েছে, ১০মিলি রডের পরিবর্তে ৮মিলি রড দেয়া হয়েছে ।

 

স্থানীয় ও কলেজ ছাত্র ফকরুল ইসলাম জানান, ২০ফুট গভীর পিলারের পরিবর্তে ১২-১৪ফুট পিলার বসানো হয়েছে , তা জিজ্ঞাসা করতে গেলে উল্টো বলে তোমার কি? আর বাকি পিলারের অংশ অন্য পিলারের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছে। পিলারের খুটি মান নি¤œ মানের। শ্রমিকদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে গেলে একটি পিলার থেকে কত দূরত্ব তা তারা জানেন না। কারণ শ্রমিকদের কাছে কোন ধরনের সাইড অর্ডার বুক পাওয়া যায়নি। নির্মান কাজে কত প্রাকলন ব্যায় ধরা হয়েছে ,এমন কি বিদ্যালয়ের সামনে সাটানো কোন সাইন বোর্ড পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত যতদূর কাজ হয়েছে রাবিশ খোয়া দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে বলে অভিযোগে করেন।

 

অভিযোগে জানা যায়, নির্মান কাজে ঠিকাদার মো: কবির হোসেন এর সাথে উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার শেয়ারে কাজ করছে। যার জন্য ওই ঠিকাদারের কোন কাজই তদারকি করেন না। এমনকি উপসহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানসহ তিন জনে মিলে টাকা ভাগাভাগি করে নেয়। এ কাজের ব্যাপারে প্রাকলন ব্যয় কত ধরা হয়েছে তার কাগজ আনতে গেলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আর বলেন দেয়া হবে না। আর অফিস থেকে এক পর্যায় চলে যেতে বাধ্য হয়। এ কাজ শুরু না করেই ৩০শে জুনের মধ্যে এলজিইডি গলাচিপা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান ঠিকাদারকে ৩০লক্ষ টাকা তুলে দেন বলে একটি নির্ভযোগ্য সূত্র জানায়। কাজের টাকা এবং কাজটি তদন্ত করলে সত্যিই অনিয়ম বের হয়ে আসবে বলে অনেকে ধারনা করেন । এ ব্যাপারে উপজেলা  প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার এর একাধিক বার ফোন করা হলে ফোনটি রিসিভ করেননি।

 

পটুয়াখালীর জেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো: হানিফ জানান, কাজটি ঠিকমতই চলছে, তবে অনিয়ম হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলী একত্রে শেয়ারে কাজ করে তা জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।##