প্রতিবেশীর হামলায় শিশুসহ শিক্ষক দম্পতি আহত

34

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আমতলীর চাওরা ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে পূর্বশক্রতার জের ধরে টিউবওয়েলে পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে প্রতিবেশী হামলায় ছয় বছরের শিশুসহ শিক্ষক দম্পতি আহত হয়েছে। আহত শিশু ও তার বাবাকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
জানাগেছে, আমতলী একে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকাবী শিক্ষক চালিতা বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বশির উদ্দিন গত পাঁচ বছর কিডনী সমস্যায় ভুগছেন। সুপেয় পানির জন্য তার ঘর সংলগ্ন সরকারী কমিউনিটি ক্লিনিকের টিউবওয়েলে থেকে তিনি একটি সংযোগ নেন। গত মঙ্গলবার ওই টিউবওয়েলের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তার চাচা সাইদুর রহমান। বুধবার সন্ধ্যায় বশির উদ্দিনের ছয় বছরের শিশুপুত্র মারজান বিচ্ছিন্ন করা পানির লাইন দেখতে যায়। এ সময় সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিশু মারজানকে মারধর করে। এ নিয়ে ওইদিন রাতে বশির উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাজমুন নাহার মারিয়া চাচা সাইদুর রহমানের কাছে শিশু মারজানকে মারধরের বিষয়টি জানতে চায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফিজা বেগম শিক্ষক দম্পতি বশির উদ্দিন ও মারিয়াকে মারধর করে। পরে তারা বশির উদ্দিনের বিভিন্ন ফলের গাছ কেটে ফেলে এবং তাদেরকে জীবন নাশের হুমকি দেয়। নিরুপায় বশির তাদের ভয়ে শিশু পুত্র মারজান ও স্ত্রী মারিয়াকে নিয়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনরা শিশু মারজান ও বশির উদ্দিনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এবং স্ত্রী মারিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলায় শিশু মারজানের মাথায়, বাম হাটু ও পায়ে জখম হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক এমদাদুল হক চৌধুরী।
শিক্ষক বশির উদ্দিন বলেন, আমি গত ৫ বছর ধরে কিডনী রোগে ভুগছি। সুপেয় পানির জন্য আমি ক্লিনিকের টিউবওয়েল থেকে পানির সংযোগ নেই। ওই পানির লাইন আমার চাচা সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফিজা বেগম বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি আরো বলেন, আমার ছয় বছরের শিশু ওই বিচ্ছিন্ন করা সংযোগ দেখতে গেলে সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী হাফিজা বেগম বেধরক মারধর করেছে। এ বিষয়টি আমি জিজ্ঞাসা করতে গেলে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, শিশু মারজানের মাথা, হাটু ও পায়ের গোড়ালিতে জখমের চিহৃ রয়েছে। অভিযুক্ত সাইদুর রহমান মারধর এবং পানির সংযোগ বিচ্ছিনের কথা অস্বীকার করেন।
আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।