প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে খুশি স্কুল ছাত্র শীর্ষেন্দু ॥ খুশি এলাকাবাসীও

9

জাহাঙ্গীর হোসেনঃঃ পটুয়াখালী সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের কাছে প্রধানমন্ত্রীর লেখা সেই চিঠিটি আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে খুশি স্কুল ছাত্র শীর্ষেন্দু । খুশি এলাকাবাসীও। সোমবার বেলা ১১টায় জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আনুষ্ঠানিক ভাবে  জেলা প্রশাসক শীর্ষেন্দুর হাতে চিঠি তুলে দেন।

চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক এ. কে.এম শামিমুল হক সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক খান মোশারফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড তারিকুজ্জামান মনি, মির্জাগজ্ঞ উপজেলা চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. সুলতান আহমেদ মৃধা। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী প্রেসক্লারে সাধারণ সম্পাদক মুফতী সালাহ্্্উদ্দীন, জেলা কমিউনিষ্ট  পার্টির সভাপতি আব্দুল মোতালেব মোল্লা, জেলা জাসদ নেতা জালাল আহমেদ, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির মাহমুদ সেলিম, শীর্ষেন্দু বিশ্বাস ‘র নানা অবিনাশ চন্দ্র সন্নামত,মা শীলা রানী সন্নামত । নিজের লেখা চিঠিটি পাঠ করেন ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস । অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্রবৃন্দ, প্রিন্টি ও মিডিয়ার সাংবাদিকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিল।

চিঠি বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে  শীর্ষেন্দুর নানা অভিনাশ চন্দ্র সন্নামত তার বক্তব্যে বলেন, আমার নাতি এখন মানুষের দূর্ভোগ লাগবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে আমাদের ধন্য করেছে। প্রধানমন্ত্রী একটি শিশুর চিঠি পড়ে তার উত্তর পাঠিয়েছে, এ জন্য আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’আর চিঠি হাতে পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভুল করেনি ছোট্ট শিশু শীর্ষেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি তার জীবনে স্বরনীয় হয়ে থাকবে বলেও জানান শীর্ষেন্দু। শীর্ষেন্দুর মা শীলা রাণী সন্নামত বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে হাজার হাজার প্রণাম জানাই। আমি খুবই গর্বিত।

এদিকে শীর্ষেন্দুর লেখা পড়ার যাবতীয় খরচ জুবিলী স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ.কে.এম শামিমুল হক সিদ্দিকী। এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক খান মোশারেফ হোসেন শীর্ষেন্দুর জন্য জেলা পরিষদের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ারও ঘোষনা দেন। আর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড.সুলতান আহমেদ মৃধা তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শীর্ষেন্দুর জন্য ১০ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষনা দেন।

উল্লেখ্য,পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি ব্রিজের দাবী জানিয়ে ১৫ আগষ্ট  প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছিলো শিশু শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। তাঁর চিঠিতে লিখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক। নাম শীর্ষেন্দু বিশ্বাস, পিতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, মাতা শীলা রাণী সন্নামত। আমি পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দিবা শাখার  চতুর্থশ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। আমার দাদু অবিনাস সন্নামত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি এবছর  আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ১৫ আগষ্ট শাহাদৎ বার্ষিকীতে জেলার অনুষ্ঠানে আপনার পিতার শৈশব কাল রচনা লিখে তৃতীয় স্থান অধিকার করি।

আমার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। আমাদের মির্জাগঞ্জ নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। এটি পটুয়াখালী জেলার একটি উপজেলা। এ নদীতে প্রচন্ড ঢেউ। মানুষ ভয় পায়। কখনও নৌকা ডুবে যায় কখনও ট্রলার ডুবে যায়। এতে আমার থেকে ছোট ভাই বোন তাদের মা বাবাকে হারায়। আমি আমার মা বাবাকে প্রচন্ড ভালবাসি। তাদের হারাতে চাই না। তাই আপনার কাছে একটাই অনুরোধ যে আপনি মির্জাগঞ্জ নদীতে ব্রীজের ব্যবস্থা করুন। তা যদি আপনি পারেন তা হলে আমাদের জন্য একটু কষ্ট করে এই ব্রীজ তৈরীর ব্যবস্থা করুন। আজ আর নয়। ইতি, আপনার দেশের একজন সাধারণ নাগরিক, শীষেন্দু বিশ্বাস।’ চিঠির ওপরের অংশে লেখা রয়েছে পুরান বাজার, পটুয়াখালী। তারিখ ১৫/০৮/২০১৬।

চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর দিয়ে উত্তর পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শীর্ষেন্দুর চিঠি পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন। করেছেন উচ্ছ্বসিত প্রসংশা। তিনি লিখেছেন, ‘¯েœহের শীর্ষেন্দু, তুমি শুধু দেশের একজন সাধারণ নাগরিক নও, দেশের ভাবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেয়ার অগ্রজ সৈনিক। আমি জানি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি অত্যান্ত খরস্রোতা। নিজের পিতামাতাসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই নদী কেন্দ্রিক তোমার নিরাপত্তা সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বুঝতে পারি তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদুর প্রভাব রয়েছে তোমার ওপর। মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মান করা হবে বলে তোমাকে আশ্বস্থ করছি।’ চিঠির জবাবের শেষের দুই লাইনে প্রধানমন্ত্রী শীর্ষেন্দুসহ পরিবারের সবার মঙ্গল কামনা করে শেষ করেন।

শীর্ষেন্দুর বাবা পটুয়াখালীতে একটি বেসরকরি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং মা শীলা রাণী সন্নামত সমবায় অধিদপ্তরের জেলা অফিসের কম্পিউটার অপারেটর পদে কাজ করেন।