প্রধানমন্ত্রী শেখ হানিসার নির্বাচনী এলাকা আমতলী-তালতলীসহ বরগুনায় ৩টি সংসদীয় আসনের দাবী

3

 

কে এম সোহেল,আমতলী  প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা বরগুনা জেলার আমতলী-তালতলী উপজেলাকে নিয়ে জাতীয় সংসদের আলাদা আসনের দাবীতে স্বোচ্চার হয়ে উঠছে আমতলী তালতলী বাসী। ২০০১ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সন থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আমতলী-তালতলীকে নিয়ে জাতীয় সংসদের-২১২ বরগুনা-০৩ পৃথক আসন ছিল। কিন্তু  ২০০৮ সনে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন ভৌগলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিবেচনায় না নিয়ে কেবলমাত্র লোক সংখ্যার অজুহাতে জেলার ৬ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৩টি সংসদীয় আসন থেকে ১টি আসন বিলুপ্ত করে ২টি আসন করেছে। এতে উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্য সহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা আমতলী-তালতলী উপজেলাকে নিয়ে জাতীয় সংসদের আলাদা আসনসহ বরগুনা জেলার ৬ টি উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ৩টি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

বরগুনা জেলার ৬ টি উপজেলা নিয়ে ৩টি আসন ছিল। এর মধ্যে বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা ১ আসন। বরগুনা সদর ও বেতাগী উপজেলার সাথে সড়ক যোগযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এবং বেতাগীর যেকোন স্থান থেকে বরগুনা আসতে সময় লাগে সর্বো”্চ একঘন্টা । পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা নিয়ে ছিল বরগুনা ২ আসন । পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার সাথেও রয়েছে অত্যন্ত ভাল সড়ক যোগযোগ। অন্যদিকে  আমতলী ও  তালতলী উপজেলা নিয়ে ছিল বরগুনা ৩ আসন। এ দু উপজেলার সাথেও রয়েছে  সড়ক যোগযোগ। কিন্তু বরগুনার এবং আমতলী,তালতলী উপজেলার মাঝখানে বিশাল পায়রা নদী এবং বেতাগী এবং বামনা পাথরঘাটা উপজেলার মাঝখানে বিশাল বিষখালী নদী থাকা স্বত্বেও

কিন্তু ২০০৮ সনে বরগুনা সদর, আমতলী উপজেলা ও তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা ১ আসন এবং পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা ২ আসন করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুরত্বের কারনে সংসদ সদস্যদের তৃণমূল পর্যায়ে যাওয়া, উন্নয়ন সম্পর্কে খোজ খবর নেয়া কিংবা তৃণমুল পর্যায়ের কোন জনগণকে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সংসদ সদস্যর কাছে খুব কষ্টকর হয়ে পরেছে।ফলে দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুকিতে থাকা উপকুলীয় বরগুনা জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কমছে এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে ।

 

অবহেলিত এ জেলার উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে এখানকার রাজনৈতিক নেতারা শুরু থেকেই আসন পূর্নবিনাসের বিরোধিতা করেন।বরগুনা ১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী  ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু আসন পূর্নবিনাসের বিরোধীতা করে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনও করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল আসন পূর্নবিন্যাস করা হলে দুর্ভোগ বাড়বে। প্রার্থীদের গনসংযোগের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এতে এলাকার দুরত্ব অনেক বেড়ে যাবে। উন্নয়নে ব্যাহত হবে। আসন সংখ্যাকমে যাওয়ায় জেলার গুরুত্ব ও রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাবে।  তিনি বলেন বড় বড় দুটি নদী পথ অতিক্রম করে অন্য উপজেলার সাথে যোগযোগ করতে হচ্ছে। তিনি পূর্বাবস্থায় বরগুনা ৩টি আসন করার দাবী জানান। সাবেক সাংসদ ও বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ ৩টি উপজেলা নিয়ে এক একটি আসন করার ফলে জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না তিনি এই জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবী জানান । সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদার বলেন বরগুনা জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের একটি আসনকে বিলুপ্তি করা ছিল অযৌক্তিক। তিনি আমতলী-তালতলীকে ভিন্ন সংসদীয় আসনের দাবী করেন। সাবেক সাংসদ এ্যাডঃ আব্দুল মজিদ মল্লিক বলেন এ সিদ্ধান্ত আমতলী তালতলীর উন্নয়ন ব্যাহত করছে। আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জি এম দেলওয়ার হোসেন বলেন তিনটি উপজেলা নিয়ে একটি সংসদীয় আসন গঠন করায় জেলার উন্নয়নসহ জেলার ব্যাহত  হচ্ছে। আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান, আমতলী-তালতলীকে নিয়ে পৃথক সংসদীয় আসনের দাবী করেন।