প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বাউফলে চলছে অভিনব পন্থায় মা ইলিশ শিকার

0

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি ঃ মাথায় কচুরিপানা ও শরীরে শোলা জাতীয় ভাসমান বস্তু বেঁধে নদীর পানিতে ভেসে থেকে টহল দলকে ফাঁকি দিয়ে মা ইলিশ শিকার করছে অসাধু জেলেরা। বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর দশমিনা অংশের বাঁশবাড়িয়া ও বাউফলের বগি, শৌলা, জাফরাবাদ, ধুলিয়া ও কেশবপুর এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অভিনব কায়দায় মা ইলিশ শিকারের চঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তরের টহল দল দিনরাত নদী চষে বেড়ালেও কোনক্রমেই রোধ করা যাচ্ছেনা মা ইলিশ শিকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাঁশবাড়িয়া পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকার কিছু দু:সাহসিক জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাথায় কচুরিপানা ও শরীরে শোলা বেঁধে নদীর পানিতে ভেসে থাকে। তাদের শরীরের সাথে বাঁধা থাকে নদীতে ফেলা জালের এক প্রান্তের রশি। টহল দল নদীতে টহল দিলেও কচুরিপানা দেখে কোনভাবেই তাদেরকে সন্দেহ করতে পারেনা। টহল দল এলাকা অতিক্রম করলেই তারা নদীর পাড়ে এসে জাল টেনে জাল ও মাছসহ সরাসরি বস্তায় ভরে চরের পাতাবনে কিংবা ছোট কোন খালে অবস্থান নেয়। ওই সব এলাকায় গরু-মহিষ চড়ানো কিংবা চাষাবাদের কাজ করছেন এমন অভিনয় করা জেলেদের লোকজন মোবাইল ফোনে নৌকা কিংবা ট্রলারে খবর পাঠিয়ে দ্রুত আহরণকৃত মাছ সরিয়ে ফেলেন। ওই সব এলাকা থেকে গোপণে ইলিশ কিনে এনেছেন এমন লোকদের কাছে জেলেরা তাদের অভিনব ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে মাছ শিকারের কথা বর্ণনা করেন। এজন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর অবরোধকালীন সময়ে ইলিশের দাম একটু বেশি নিচ্ছেন বলেও জেলেরা জানান। জেলেদের বর্ণনা মতে, তাদের বিক্রিকৃত টাকা থেকে নেতাদেরও পার্সেন্টেজ দিতে হয়।

এদিকে বাউফলে টহলরত কোস্টগার্ডের কমান্ডিং অফিসার এম. আকবর মিয় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত কথা শুনে তাজ্জব হয়ে পরেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। কোস্টগার্ডের অপর এক কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, জীবনের এমন ঝুঁকি নিয়ে ইলিশ শিকার কোন সুস্থ মানুষের কাজ নয়। তবে যে কোন অপকৌশলই নস্যাত করে মা ইলিশকে রক্ষা করা হবে। সরেজমিন বাউফলের তেঁতুলিয়া নদী সংলগ্ন ছোট ছোট খালে গিয়ে দেখা গেছে, অসংখ্য মাছ ধরার নৌকা ও জাল খালের মধ্যে রাখা হয়েছে। সুযোগ এলেই জেলেরা ওই জাল নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পরেন। উত্তর বাউফলের নিরীহ জেলেরা জানান, বাউফল মৎস্য অফিসের এক কর্মকর্তা তাদের এলাকায় ইলিশ শিকারে বেশি কড়াকরি করায় তাকে দুমকিতে বদলী করে দেয়া হয়েছে। এরফলে ওই এলাকায় নজরদারি কমে গেছে। তবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দুমকিতেও অভিযান চলছে। সেখানকার চাহিদা মোতাবেক জেলা অফিস তাকে বদলি করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মাহামুদ জামান জানান, মা ইলিশ রক্ষায় ২৪ ঘন্টা অভিযান চালানো হচ্ছে। খালে নৌকা ও জাল নিয়ে জেলেদের অবস্থান ও অভিনব পন্থায় ইলিশ শিকারের ব্যপারটি খতিয়ে দেখবেন।